
কলকাতা: ভোট-পরবর্তী অশান্তি ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনীতি। (Susmita Dev)দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হিংসার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের চার সদস্যের একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম। সেই প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য সুস্মিতা দেব বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন, এলাকায় ঘটে যাওয়া হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিজেপি কর্মীদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
#WATCH | Kolkata: On a 4-member TMC delegation (fact-finding team) visiting South 24 Parganas over post-poll violence, TMC MP Susmita Dev says, “We went to our party offices, spoke with the party workers and met the injured. It is confirmed that BJP workers are involved in… pic.twitter.com/JCSdoK777I
— ANI (@ANI) May 17, 2026
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল দলীয় কার্যালয়, আক্রান্ত কর্মীদের বাড়ি এবং আহতদের সঙ্গে কথা বলে। সফর শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুস্মিতা দেব বলেন, “আমরা আমাদের পার্টি অফিসে গিয়েছি, কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং আহতদের সঙ্গে দেখা করেছি। যা তথ্য উঠে এসেছে, তাতে নিশ্চিতভাবে বিজেপি কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।”
আরও দেখুনঃ প্রধানমন্ত্রী বালেনকে ভর্ত্সনা করে ভারতীয় পণ্যে শুল্কে নিষেধাজ্ঞা সুপ্রিমকোর্টের
তিনি আরও দাবি করেন, আক্রান্তদের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও বহু ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়নি। তাঁর কথায়, “যদি কোনও রাজনৈতিক দলের অফিসে হামলা করা হয়, কর্মীদের ভয় দেখানো হয়, তাহলে তা কখনও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে না।” তৃণমূল সাংসদের এই মন্তব্যের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ভোট মিটতেই বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ, হামলা ও রাজনৈতিক অশান্তির অভিযোগ সামনে এসেছে। শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণের অভিযোগ তুলেছে। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সফরের পর সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি তৃণমূলের আমলেও সন্ত্রাস হলে পুলিশ অভিযোগ নেয়নি।
সুস্মিতা দেব কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকাতেও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “অমিত শাহ বাংলায় ভোটের পর ৬০ দিন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমরা আশা করি, তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছে তৃণমূল।
এছাড়াও ‘বুলডোজার রাজনীতি’ নিয়েও কড়া প্রতিক্রিয়া দেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি বলেন, “ধর্ম বা জাতের ভিত্তিতে যদি বুলডোজার ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি।” সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে প্রশাসনের বুলডোজার ব্যবহারের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেই তাঁর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সাংবিধানিক পদ সম্পর্কেও মন্তব্য করেন সুস্মিতা দেব। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারও একটি সাংবিধানিক পদ, সেটি আইনের ঊর্ধ্বে নয়।” তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যার জন্ম দিয়েছে। যদিও তৃণমূল সূত্রে দাবি করা হয়েছে, আইনের শাসন বজায় রাখার বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি। তৃণমূলের এই প্রতিনিধি দল খুব শীঘ্রই সমস্ত তথ্য লিখিত আকারে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কাছে জমা দেবে বলেও জানিয়েছেন সুস্মিতা দেব। এরপর রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

