কলকাতা: বঙ্গে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও (chairman)রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত এক নতুন যুগ শুরু হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে রাজ্যবাসীর কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নিয়োগ কমিশনগুলিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে ইউপিএসসি মডেলে ঢেলে সাজানো হবে।

এই লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশনের (ডব্লিউবিসিএসসি) চেয়ারম্যান পদে রাজ্যের অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও বরিষ্ঠ আইএএস অফিসার দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে নিয়োগ করা হয়েছে।শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, “রাজ্যবাসীর কাছে আমাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ছিল যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনা হবে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় শূন্য পদে নিয়োগের ঘোষণার সময়ই আমরা বলেছিলাম, কোনো নিয়োগ কমিটিতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থাকবেন না।
আরও দেখুনঃ NeVAর আওতায় ৩৩ তম কাগজহীন বিধানসভা হিসেবে যোগ দিতে চলেছে বঙ্গের বিধানসভা
আমাদের সরকার সেই প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে বদ্ধপরিকর।”এই নিয়োগকে অনেকে রাজ্যের শিক্ষা ও চাকরি খাতে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। দুষ্মন্ত নারিয়ালা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও সততার জন্য তিনি পরিচিত। তাঁকে চেয়ারম্যান করার ফলে কমিশনের কাজকর্মে নিরপেক্ষতা ও গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারী আরও উল্লেখ করেছেন, “মেধা ও যোগ্যতাই হবে চাকরি পাওয়ার একমাত্র মাপকাঠি। অতীতের দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের আমলে যে অন্যায় হয়েছে, তার কোনো স্থান এই নতুন পশ্চিমবঙ্গে নেই। যোগ্য মেধাবী চাকরিপ্রার্থীদের অধিকার সুরক্ষিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”রাজ্যের বেকার যুবসমাজের জন্য এই ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ জমে ছিল।
এসএসসি-এর মতো কমিশনে কোটি কোটি টাকার কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছিল। ফলে লক্ষ লক্ষ যোগ্য প্রার্থী চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। নতুন সরকারের এই উদ্যোগ সেই ক্ষত পূরণের প্রয়াস বলে মনে করা হচ্ছে।প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, দুষ্মন্ত নারিয়ালা দায়িত্ব নেওয়ার পর কমিশনের কাজকর্ম পুরোপুরি ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করার পরিকল্পনা চলছে। আবেদন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে পরীক্ষা, মূল্যায়ন ও চূড়ান্ত নিয়োগপ্রতিটি ধাপে নজরদারি বাড়ানো হবে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ একেবারে শূন্য রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


