
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে জোর চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে তথাকথিত ‘ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার’ ধারণা (Triple Engine Government)। রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই বিজেপি বিধায়কদের একাংশ এখন পুরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের কাজে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন পুর এলাকায় নিকাশি সমস্যা, আবর্জনা পরিষ্কার থেকে শুরু করে নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও বিজেপি বিধায়কদের সক্রিয় ভূমিকা দেখা যাচ্ছে। এমনকি বহু ক্ষেত্রে তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডও বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে বলে দাবি উঠেছে।
রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি বিধায়কদের প্রভাব ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিশেষ করে যেখানে বিজেপির জনপ্রতিনিধিরা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন, সেখানে সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে তাঁরা সরাসরি পুর প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ফলে পুরসভার কাজেও তাঁদের প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ ‘ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিচ্ছে না পুলিশ!’ অভিযোগ তৃণমূল নেত্রীর
একাধিক এলাকায় দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় মানুষজন জল, রাস্তা, আলো কিংবা আবর্জনা পরিষ্কারের মতো নাগরিক সমস্যার সমাধানের জন্য সরাসরি বিজেপি বিধায়কদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিধায়করা পুর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে প্রশাসনিক সমন্বয়ের এক নতুন ছবি সামনে আসছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটিই এখন ‘ট্রিপল ইঞ্জিন’ মডেল হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। অর্থাৎ কেন্দ্রের সরকার, বিধানসভায় শক্তিশালী বিরোধী উপস্থিতি এবং স্থানীয় প্রশাসনে প্রভাব এই তিন স্তর মিলিয়েই বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যে ক্ষমতায় নেই গেরুয়া শিবির, তবুও প্রশাসনিক কাজে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশও বিষয়টিকে পুরোপুরি অস্বীকার করছে না। রাজনৈতিক সংঘাত থাকলেও নাগরিক পরিষেবা সচল রাখার জন্য অনেক পুরপ্রধানই বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন বলে খবর। কারণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে পরিষেবা ব্যাহত হলে তার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের উপর পড়ে। তাই বাস্তব পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই অনেক ক্ষেত্রে সমন্বয়ের পথে হাঁটছে স্থানীয় প্রশাসন।
তবে বিরোধীরা এই বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখছে। তাদের দাবি, বিজেপি ধীরে ধীরে প্রশাসনিক কাঠামোর উপর রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। যদিও বিজেপির বক্তব্য, মানুষের সমস্যা সমাধান করাই জনপ্রতিনিধিদের মূল কাজ এবং তারা সেটাই করছেন। দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করাই তাদের উদ্দেশ্য বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী পুরসভা নির্বাচন এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এই ‘ট্রিপল ইঞ্জিন’ তত্ত্ব বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যেখানে পুরসভায় তৃণমূলের বোর্ড রয়েছে কিন্তু এলাকায় বিজেপি বিধায়ক শক্তিশালী, সেখানে এই সমন্বয় ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

