মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হলেন সুব্রত গুপ্ত! পার্সোনাল সেক্রেটারি শান্তনু বালা

shuvendu-adhikari-personal-secretary-shantanu-bala

কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসনিক টিম গঠন শুরু করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Shuvendu Adhikari)। নতুন সরকারের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে শনিবারই গুরুত্বপূর্ণ দুটি নিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১৭ ব্যাচের আইএএস অফিসার শান্তনু বালাকে মুখ্যমন্ত্রীর নতুন পার্সোনাল সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার সুব্রত গুপ্তকে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদে আনা হয়েছে।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এই দুই নিয়োগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই শুভেন্দু অধিকারী যে প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে চাইছেন, এই পদক্ষেপ তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

   

আরও দেখুনঃ জামশেদপুরের কঠিন চ্যালেঞ্জে আজ মাঠে নামছেন সুনীল ছেত্রীরা

নতুন পার্সোনাল সেক্রেটারি শান্তনু বালা এর আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট পদে কর্মরত ছিলেন। প্রশাসনিক মহলে তিনি একজন দক্ষ ও সক্রিয় অফিসার হিসেবেই পরিচিত। এর আগে কোচবিহার এবং মুর্শিদাবাদ জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক বা এডিএম হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। বিভিন্ন জেলায় মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থাকায় তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ প্রশাসনিক টিমে আনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, অবসরপ্রাপ্ত আইএএস সুব্রত গুপ্তকে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্তও রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। গত বছরের অক্টোবর মাসে রাজ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সময় নির্বাচন কমিশন তাঁকে বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছিল। ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে তাঁর ভূমিকা কমিশনের প্রশংসা পেয়েছিল বলেই সূত্রের দাবি। পরবর্তীতে বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও তাঁকে বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, সুব্রত গুপ্তর অভিজ্ঞতা নতুন সরকারের নীতি নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের পরে রাজ্যের প্রশাসনিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা এবং বিভিন্ন দপ্তরের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন সরকার যে দ্রুত পদক্ষেপ করতে চাইছে, তা এই নিয়োগ থেকেই স্পষ্ট।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বড়সড় রদবদল করেছিল। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ বহু উচ্চপদস্থ আধিকারিককে বদলি করা হয়। বর্তমানে মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন দুষ্যন্ত নারিয়ালা এবং স্বরাষ্ট্রসচিব পদে রয়েছেন সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ। তবে নতুন সরকার গঠনের পরে এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে পরিবর্তন আসতে পারে কিনা, তা নিয়েও ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এখনও কোনও ঘোষণা করা হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শপথের পর এত দ্রুত প্রশাসনিক টিম গঠন করে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে তাঁর সরকার শুরু থেকেই প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে জোর দিতে চলেছে। বিজেপির প্রথম সরকার হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের প্রশাসনিক দক্ষতা প্রমাণ করাও নতুন সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এদিকে বিজেপি শিবিরে এই নিয়োগ ঘিরে উৎসাহ দেখা গিয়েছে। তাঁদের মতে, অভিজ্ঞ এবং মাঠপর্যায়ের কাজ জানা অফিসারদের দায়িত্বে আনা হলে প্রশাসনের গতি বাড়বে। সব মিলিয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম দিনের এই সিদ্ধান্তগুলি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক কাঠামোয় আরও বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।