আন্দোলনে লাঠিচার্জ কেন! ধর্মেন্দ্রর পর শাহের পদত্যাগ দাবি সাগরিকার

নয়াদিল্লি: রাজধানী দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন ঘিরে দীর্ঘদিন উত্তপ্ত ছিল রাজনৈতিক মহল (Sagarika)। গতকাল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে বন্ধ হয়েছে আন্দোলন। এই রাজনৈতিক আবহের মধ্যেই কেন্দ্রীয়…

sagarika-amit-shah-resignation

নয়াদিল্লি: রাজধানী দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন ঘিরে দীর্ঘদিন উত্তপ্ত ছিল রাজনৈতিক মহল (Sagarika)। গতকাল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে বন্ধ হয়েছে আন্দোলন। এই রাজনৈতিক আবহের মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ।

২৫ জুলাই নিজের সরকারি এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নিরস্ত্র ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশ যেভাবে লাঠিচার্জ করেছে, তার দায় এড়াতে পারে না কেন্দ্রীয় সরকার। দিল্লির আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব যেহেতু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে, তাই এই ঘটনার নৈতিক দায় নিয়ে অমিত শাহের ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করা উচিত বলেও দাবি করেন তিনি।

Advertisements

আরও দেখুনঃ CISF র অভিযানে ব্যর্থ কয়লা চুরি! ৬ দিনের ধরপাকড়ে জালে ৫ কয়লা মাফিয়া

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। এই আবহে সাগরিকার মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। আন্দোলনে লাঠিচার্জের প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূল সাংসদ বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাত্র আন্দোলনের একটি আংশিক সাফল্য মাত্র। তাঁর ভাষায়, “এই আন্দোলনের জয় এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। মাত্র ২৫ শতাংশ লক্ষ্য পূরণ হয়েছে, বাকি ৭৫ শতাংশ এখনও অর্জন করা বাকি।”

তিনি দাবি করেন, ২০ জুলাই সংসদের উদ্দেশে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করা ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশ অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয়, কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো হয় এবং বহু শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। এই ঘটনাকে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন সাগরিকা ঘোষ।

তাঁর বক্তব্যে আরও বলা হয়, দেশের যুবসমাজ যদি নিজেদের দাবি নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে না পারে, তাহলে তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগের বিষয়। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের আচরণ ছিল কঠোর এবং অপ্রয়োজনীয়। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

আরও দেখুনঃ ‘বিজেপিকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না!’ যোগী রাজ্যে জোটের জন্য প্রস্তুত ওয়েইসি

দিল্লির আইনশৃঙ্খলা সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে পরিচালিত হয়। সেই কারণেই সাগরিকা ঘোষের দাবি, পুলিশের পদক্ষেপের জন্য রাজনৈতিক দায় এড়ানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “ছাত্রদের কাছে ক্ষমা চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। গণতন্ত্রে সরকারের জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন।”

তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যুতে সরব। ছাত্র আন্দোলন, শিক্ষা ব্যবস্থা, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এবং আইনশৃঙ্খলার মতো বিষয়েও দলটি ধারাবাহিকভাবে কেন্দ্রের সমালোচনা করে এসেছে। সাগরিকা ঘোষের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই রাজনৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।