
পালাবদলের পর থেকেই বাংলার রাজনীতিতে ঘন্টায় ঘন্টায় বদলাচ্ছে রাজনৈতিক আবহ। (Raju Parui)হুগলি জেলার বৈদ্যবাটী পৌরসভা এলাকায় বিজেপি কর্মীদের মারধর এবং নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় কাউন্সিলর রাজু পাড়ুই ওরফে চন্ডেকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে জেলাজুড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে গত ২৬ এপ্রিল বিকেলে বৈদ্যবাটি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের যাত্রাবাগের বাগান এলাকায় বিজেপি কর্মী ও সমর্থকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছিলেন। সেই সময়ই অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলর রাজু পাড়ুই তাঁর অনুগামীদের নিয়ে সেখানে পৌঁছে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিজেপির দাবি, তাদের কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিজেপি কর্মীদের হেনস্থা করা হয় এবং কয়েকজনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনাস্থলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ভোটের সময় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বরাবরই থাকে, তবে এবারের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আরও দেখুনঃওলা-উবের, র্যাপিডোকে অ্যাপ স্টোর থেকে সরানোর দাবি বিজেপি সরকারের
ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার কারণে প্রকাশ্যে অভিযোগ জানাতে সাহস পাননি আক্রান্তরা বলে বিজেপির দাবি। পরে বিজেপি কর্মী স্নেহাংশু মহন্ত শ্রীরামপুর থানায় রাজু পাড়ুই এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ।তদন্তের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলর রাজু পাড়ুই ওরফে চন্ডেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার তাঁকে শ্রীরামপুর আদালতে তোলা হবে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ভোটের আগে বিরোধী দলের প্রচার আটকাতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। দলের নেতাদের দাবি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে এবং সাধারণ কর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিজেপি নেতৃত্ব অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবিও জানিয়েছে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৃণমূল কাউন্সিলরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। তৃণমূলের একাংশের বক্তব্য, ঘটনাটি নিয়ে একতরফা প্রচার করা হচ্ছে এবং প্রকৃত সত্য সামনে আসা দরকার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে বাংলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের অভিযোগ নতুন নয়। প্রায় প্রতিটি নির্বাচনের সময়ই বিভিন্ন জেলায় শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে এই ধরনের ঘটনায় রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, নির্বাচনের সময় এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনও প্রভাবিত হয়। তাই প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

