
কলকাতা: প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাকি মাত্র কয়েকঘন্টা। বাংলায় নির্বাচন এলেই ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায় রাজনৈতিক উত্তাপ ( Advance All Out)। এমনকি স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ভোট পরবর্তী হিংসার রেকর্ডও রয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে যাতে এই ধরণের ঘটনা না ঘটে তাই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যে এবার রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী। শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাংলা অপারেশন ‘অ্যাডভান্স অল আউট।’ ফেজ ১” নামে এই বিশেষ উদ্যোগ ইতিমধ্যেই রাজ্যের একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায় চালু হয়েছে। মূল লক্ষ্য একটাই ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি করা।
এই অভিযানের নেতৃত্বে রয়েছে সিআরপিএফ। বাহিনীর আধিকারিকদের মতে, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই কিছু এলাকায় ভীতি ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার শুধু টহলদারি নয়, সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আরও দেখুনঃ ৬ মাসে মিটবে পাহাড়ের যাবতীয় সমস্যা! সুকনা থেকে গোর্খাদের বড় প্রতিশ্রুতি শাহের
এই “অপারেশন অ্যাডভান্স অল আউট”-এর প্রথম ধাপে তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, গ্রামীণ স্তরে আস্থা বৃদ্ধির উদ্যোগ। সিআরপিএফ জওয়ানরা এখন শুধু রাস্তায় টহল দিচ্ছেন না, তারা গ্রামে ঢুকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, তাদের সমস্যা শুনছেন এবং নিরাপত্তার আশ্বাস দিচ্ছেন। অনেক জায়গায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটের দিন নির্ভয়ে ভোট দিতে অনুরোধও জানানো হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, ভোটারদের আশ্বস্ত করা। বহু জায়গায় অভিযোগ ওঠে, ভোটের আগে রাজনৈতিক চাপ বা হুমকির কারণে মানুষ ভোট দিতে যেতে ভয় পান। এই পরিস্থিতি বদলাতে সিআরপিএফ স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে কোনও রকম ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই, কেন্দ্রীয় বাহিনী সম্পূর্ণভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এমনকি সংবেদনশীল বুথগুলিতে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।
তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ভয়ভীতি বা দমন পীড়নের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করে বা ভয় দেখায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি জায়গায় সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে।
তবে এবার বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী আলাদাই দায়িত্ব পালন করছে। আগের বারের থেকেও অনেক কড়া ব্যাবস্থাপনা নিয়ে এবার রাজ্যে CRPF। রাস্তায় রাস্তায় নাকা চেকিং থেকে শুরু করে। রাজনৈতিক হিংসা, ভয় দেখানো সমস্ত বিষয়েই আগের সমস্ত নির্বাচন গুলোর চেয়ে অনেক কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় জওয়ানরা। রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলের মতে এবারে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আঁটোসাঁটো নিরাপত্তার ঘেরাটোপ মানুষকে নির্ভয়ে ভোট দিতে সাহায্য করবে।

