দার্জিলিং: আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন। আর তার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে, প্রচারের শেষ দিনে দার্জিলিং পাহাড়ের রাজনীতিতে বড় চমক দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার কার্শিয়াঙের সুকনায় এক মেগা জনসভা থেকে গোর্খাদের আবেগ উসকে দিয়ে শাহের স্পষ্ট বার্তা, “গোর্খাদের ইতিহাস পুনরুদ্ধারের সময় এসে গিয়েছে।” তাঁর স্পষ্ট দাবি, বিজেপি ছাড়া পাহাড়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধান আর কেউ করতে পারবে না। রাজ্যে পদ্ম-শিবির ক্ষমতায় এলেই দীর্ঘদিনের বঞ্চনা মিটিয়ে গোর্খাদের মুখে হাসি ফোটাবে মোদী সরকার।
শাহের ‘ডেডলাইন’ ও মধ্যস্থতাকারী বিতর্ক
এদিন আত্মবিশ্বাসের সুরে শাহ বলেন, “৪ মে ভোটের ফল বেরোবে এবং বিজেপি বড় জয় পাবে। সরকার গড়ার পর ৬ মে আমরা এমন সিদ্ধান্ত নেব, যাতে গোর্খাদের সব দাবি পূরণ হয়।” পাহাড়ের সমস্যা মেটাতে কেন্দ্রের নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী (অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস পঙ্কজকুমার সিং) প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূলকে কড়া নিশানা করেন তিনি। শাহের অভিযোগ, কেন্দ্র তিনবার বৈঠক ডাকলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও প্রতিনিধি পাঠাননি। তাই বাধ্য হয়েই মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তাঁর তৈরি করা রিপোর্টের ভিত্তিতেই পাহাড়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
মামলা প্রত্যাহার ও ভোটার তালিকা সংশোধন Amit Shah Darjeeling Rally
গোর্খাদের আবেগ ছুঁতে এদিন আরও দু’টি বড় প্রতিশ্রুতি দেন শাহ। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় শাসকদলের অঙ্গুলিহেলনে বহু গোর্খার নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেই সব নাম ফেরানো হবে। পাশাপাশি, পাহাড়ের বাসিন্দাদের ওপর তৃণমূল সরকারের চাপানো সমস্ত আইনি মামলাও প্রত্যাহার করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
অতীতের প্রতিশ্রুতি পূরণের ব্যর্থতা নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষের মাঝেই, বিধানসভা ভোটের আগে শাহের এই নতুন ‘মাস্টারস্ট্রোক’ পাহাড়ের সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন নজর সেদিকেই।




















