
কলকাতা: মুর্শিদাবাদের হরগোবিন্দ-চন্দন দাস খুন কাণ্ডে দোষী সাব্যস্তদের পরিবারের অভিযোগে উঠল রাজনৈতিক চক্রান্তের গন্ধ। (Murshidabad)মুর্শিদাবাদের জাফরাবাদ গ্রামে গত বছরের এপ্রিল মাসে ওয়াকফ আইন সংশোধনের বিরুদ্ধে উত্তেজিত জনতার হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছিলেন বৃদ্ধ হরগোবিন্দ দাস (৭২) ও তাঁর ছেলে চন্দন দাস (৪০)। বাড়ির ভিতর থেকে টেনে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল তাঁদের।
ঘটনার পর আট মাস কেটে গেলে জঙ্গিপুর আদালত ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়। কিন্তু এখন সেই দোষীদের পরিবারের বক্তব্যে নতুন করে উঠে এসেছে গভীর রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ।দোষী সাব্যস্তদের স্ত্রী, মা ও অন্যান্য সদস্যরা খোলাখুলি বলছেন, প্রকৃত অপরাধীরা এখনও ছায়ায় রয়ে গেছে। তাঁদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি নির্দেশে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাদের বাঁচানো হয়েছে।
The statements made by the families of those convicted in the brutal murders of Hargobinda Das and Chandan Das in Murshidabad now clearly reveal the unmistakable whiff of a deep-seated political conspiracy.
They allege that, acting under the direct orders of the Trinamool’s top… pic.twitter.com/GWHlpbhXHK
— Krishanu Singha (@KrishanuOnline) April 26, 2026
প্রকৃত দোষীদের আড়াল করতে এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের তুলে এনে বেধড়ক মারধর, হুমকি ও ভয় দেখিয়ে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। যাকে তদন্ত বলা হয়েছে, তা নাকি ছিল একটা সাজানো নাটক মাত্র।এক দোষীর স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার স্বামীকে পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক অত্যাচার করেছে। তাকে বলা হয়েছে, স্বীকার না করলে পুরো পরিবারকে শেষ করে দেওয়া হবে।
আরও দেখুনঃনৌসেনার শক্তি বৃদ্ধি, দেশীয় প্রযুক্তিতে স্মার্ট স্ট্রাইক টর্পেডো তৈরি বিডিএল-এর
আসল যারা মাথার উপর থেকে নির্দেশ দিয়েছে, তাদের নাম কেউ উচ্চারণ করতে পারেনি।” আরেকজনের মা অভিযোগ করেন, “যারা সত্যিকারের নেতৃত্ব দিয়েছে, তারা তৃণমূলের শক্তিশালী লোক। তাদের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে তদন্তের বাইরে রাখা হয়েছে। আমাদের ছেলেরা শুধু সামনে এসে পড়েছে।”ঘটনার পর থেকেই বিজেপি-সহ বিরোধীরা দাবি করে আসছে যে, এই হত্যাকাণ্ড ছিল লক্ষ্যবস্তু করে হিন্দু পরিবারের উপর আক্রমণ।
কিন্তু প্রশাসন নাকি তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। দোষীদের পরিবারের এই নতুন বক্তব্য সেই অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে। তাঁরা বলছেন, পুলিশের ‘অ্যারেস্টের ড্রামা’ ছিল শুধুমাত্র চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য। আসল মাস্টারমাইন্ডরা এখনও নিরাপদে রয়েছে এবং তৃণমূলের ছত্রছায়ায় থেকে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।মুর্শিদাবাদের স্থানীয় বাসিন্দারা এখনও সেই ভয়াল রাতের স্মৃতি ভুলতে পারেননি। অনেকে বলছেন, ওয়াকফ আইন নিয়ে প্রতিবাদের আড়ালে একটা পরিকল্পিত হিংসা চালানো হয়েছিল।
হরগোবিন্দ ও চন্দন দাসের পরিবারও আদালতে সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা ভাবছে। তাঁরা মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছিলেন, কিন্তু যাবজ্জীবন সাজায় সন্তুষ্ট নন।রাজনৈতিক মহলে এই অভিযোগ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া না এলেও, বিরোধীরা বলছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রশাসন যেভাবে কাজ করছে, তাতে স্পষ্ট যে অপরাধীদের রক্ষা করাই লক্ষ্য।” সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে আসল খুনিরা কি সত্যিই শাস্তি পাবে, নাকি এটাও রাজনৈতিক খেলার অংশ?

