কলকাতা: ভোটের নির্ঘণ্ট যত এগোচ্ছে, উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলের রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। রবিবার রাতে জগদ্দল থানার সামনে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিল পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর গোপাল রাউত-সহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন কৌশিক দাস, সিকান্দর প্রসাদ এবং শ্যামদেব সাউ।
থানার সামনেই বোমাবাজি-গুলি
রবিবার রাতের জগদ্দল কার্যত অন্ধকার আর আতঙ্কে ডুবে ছিল। অভিযোগ, আটচালা বাগান এলাকায় দুই পক্ষের বচসা থেকে শুরু হওয়া বিবাদ দ্রুত বোমাবাজি ও গুলিবৃষ্টিতে রূপ নেয়। এমনকি থানার সামনেই অবাধে চলে ইটবৃষ্টি। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় রাতেই বিশাল পুলিশ বাহিনী, র্যাফ (RAF) ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নামাতে হয়। জগদ্দল থানার গেটে তালা ঝুলিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয় পুলিশকে।
বিজেপি প্রার্থীর বাড়িতে হামলা, জখম জওয়ান Jagaddal Political Clash Arrest
অর্জুন-পুত্র পবন কুমার সিং-এর দাবি, তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। এই হামলায় পবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ (CISF) জওয়ান যোগেশ শর্মা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে অভিযোগ। অর্জুন সিংয়ের দাবি, ২০ থেকে ২২ জনের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং সেই ভিত্তিতেই কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পাল্টা শাসকশিবিরের তোপ
তৃণমূলের ভাটপাড়া প্রার্থী অমিত গুপ্তর অভিযোগ, বিজেপি নেতা অর্জুন সিং সদলবলে এসে তাঁদের কর্মীদের ওপর চড়াও হয়েছেন। সোমবার সকালে কাউন্সিলর গোপাল রাউতের গ্রেফতারের প্রতিবাদে ভাটপাড়া থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের দাবি, অর্জুন সিংয়ের বাহিনীই এলাকায় অশান্তি পাকিয়েছে।
কমিশনের নজরে জগদ্দল
সোমবার জগদ্দলে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা। তার আগে এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিদ্র করতে বিপুল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, মাঝরাতের এই অশান্তির ঘটনায় উদ্বিগ্ন নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যই পুলিশের কাছে বিশদ রিপোর্ট তলব করেছে।




















