ভোট না দিয়ে হজ নয়! হুঁশিয়ারি মমতার

mamata-banerjee-haj-vote-nrc-controversy-amdanga-rally

কলকাতা: নির্বাচনী প্রচারে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।  (Mamata Banerjee)উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙার নির্বাচনী প্রচারের সভা থেকে হজযাত্রীদের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চর্চা। সভামঞ্চ থেকে তিনি বলেন, “যাঁরা হজে যেতে চান, হজ কমিটি ব্যবস্থা করবে। কিন্তু দয়া করে আগে নিজের ভোটটা দিয়ে যান। ভোট না দিয়ে গেলে পরে যদি এনআরসি করে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়, তখন কিন্তু আমাকে দোষ দেবেন না।” এই মন্তব্য সামনে আসতেই তা নিয়ে নানা মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে একদিকে যেমন ভোটদানের গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, তেমনই এনআরসি প্রসঙ্গ টেনে তিনি আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, অতীতে দেখা গেছে ভোটের সময় অনেকেই বিভিন্ন কারণে বাইরে চলে যান, যার ফলে ভোটদানে অংশগ্রহণ কমে যায়। সেই প্রসঙ্গেই তিনি হজযাত্রীদের উদ্দেশে অনুরোধ জানান, যাতে তাঁরা ভোট দিয়ে তবেই যাত্রা করেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বাইরের রাজ্য থেকে আসা কিছু লোক ধর্মীয় শপথ করিয়ে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভোট দিতে চাপ সৃষ্টি করছে যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী।

   

আরও দেখুনঃ দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি, হারলেই সফর হাতছাড়া ভারতের

এই মন্তব্য ঘিরে বিরোধী দলগুলির তীব্র প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি করছেন এবং ভয় দেখিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছেন। তাঁদের মতে, এনআরসি প্রসঙ্গ টেনে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। বিজেপির নেতারা আরও বলেন, ভোট একটি সাংবিধানিক অধিকার এবং তা নিয়ে কোনও ধরনের ভয় দেখানো উচিত নয়।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করা হয়েছে। দলের নেতারা বলছেন, তিনি কোনওভাবেই ভয় দেখাননি, বরং ভোটের গুরুত্ব বোঝাতে চেয়েছেন। তাঁদের দাবি, এনআরসি নিয়ে মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ রয়েছে, তা অমূলক নয়, এবং সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় এই ধরনের বক্তব্য নতুন নয়। ভোটের আগে বিভিন্ন দল নিজেদের সমর্থক গোষ্ঠীকে একত্রিত করতে নানা কৌশল নেয়। ধর্মীয় বা সামাজিক প্রসঙ্গকে সামনে এনে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা বহুদিন ধরেই চলে আসছে। তবে এর ফলে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হয়ে ওঠে বলেই মনে করেন অনেকেই।

এদিকে, সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই মন্তব্য নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, ভোট দেওয়া প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব এবং সেই দিক থেকে মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বান যথার্থ। আবার অন্য একাংশের মতে, এনআরসি প্রসঙ্গ টেনে ভয় দেখানো উচিত হয়নি, কারণ এতে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক তৈরি হতে পারে।