৪৮ ঘন্টার মধ্যে বুলডোজার চলবে জাভেদ খানের পার্টি অফিসে

কলকাতা: কসবার তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ খানের (Javed Ahmed Khan)তিলজলার কার্যালয়ে কলকাতা পুরসভার ভাঙার নোটিশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তিলজলার জি.জে. খান ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
javed-ahmed-khan-kmc-demolition-notice-tiljala-office

কলকাতা: কসবার তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ খানের (Javed Ahmed Khan)তিলজলার কার্যালয়ে কলকাতা পুরসভার ভাঙার নোটিশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তিলজলার জি.জে. খান রোডে অবস্থিত বহু পুরনো এই কার্যালয়ের একাংশ অনুমোদিত নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ গত ২৪ মে সেখানে নোটিশ সেঁটে দেয়। পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন আইনের ৪০০(১) ধারায় ওই অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিলজলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই জনের মৃত্যুর পর থেকেই কলকাতা পুরসভা ওই এলাকা সহ কসবা ও বেলেঘাটায় বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। একাধিক অবৈধ কারখানা, গুদাম এবং অনুমোদনহীন নির্মাণ চিহ্নিত করে বুলডোজার অভিযান চালানো হচ্ছে। সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই এবার নজরে আসে জাভেদ আহমেদ খানের কার্যালয়।

   

আরও দেখুনঃ গেরুয়া সুনামি রুখতে এবার শহরতলিতে নজর মমতার! আজ কালীঘাটে ৪ পুরসভার মেগা বৈঠক

পুরসভার অভিযোগ, ভবনের একটি অংশ অনুমোদিত নকশার বাইরে তৈরি করা হয়েছিল। তদন্তের পর সেই অংশকেই বেআইনি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। শুধু তাই নয়, বিধায়কের ছেলের সঙ্গে যুক্ত কিছু নির্মাণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে এবং তার একাংশ ইতিমধ্যেই ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে খবর।

তবে তৃণমূলের স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের একাংশ দাবি করেছেন, এই কার্যালয় নতুন নয়, বরং বহু পুরনো। তাঁদের বক্তব্য, “বাবা-দাদার আমল থেকে এই অফিস রয়েছে। হঠাৎ করে এখন কেন বেআইনি বলা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।” অনেকের মতে, পুরনো নির্মাণের ক্ষেত্রে নথিপত্র ও অনুমোদনের জটিলতার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে বিজেপি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করেছে। বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল প্রশ্ন তুলেছেন, “এতদিন ধরে কীভাবে পুরসভার নাকের ডগায় বেআইনি নির্মাণ চলল? সাধারণ মানুষের বাড়ি ভাঙতে পুরসভা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে কেন এতদিন নীরবতা ছিল?” বিজেপির দাবি, এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে শহরে বেআইনি নির্মাণের একটি বড় চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়া ছাড়া তা সম্ভব নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি বেআইনি নির্মাণ বিতর্ক নয়, বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে। তিলজলার অগ্নিকাণ্ডের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার জেরেই পুরসভা এখন কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে। ফলে শাসকদলের নেতার অফিসেও নোটিশ ঝোলাতে পিছপা হয়নি প্রশাসন।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google