‘পরিবারকে হুমকি দেওয়া সংবিধান বিরুদ্ধ!’ মত জাহাঙ্গীরের

jahangir-khan-allegation-police-observer-threat-diamond-harbour

ডায়মন্ড হারবার: ডায়মন্ড হারবারে নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। (Jahangir Khan)আর তার মধ্যেই নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ অবজারভার অজয় পাল শর্মা। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

গতকাল বিকেল প্রায় ৩টে নাগাদ পুলিশ অবজারভার আচমকাই দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছন। সেখানে গিয়ে তিনি নিরাপত্তা কর্মীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন বলে দাবি জাহাঙ্গির খানের। শুধু তাই নয়, অভিযোগ আরও গুরুতর দলীয় কার্যালয় থেকে বেরিয়ে তিনি সরাসরি প্রার্থীর পরিবারের সদস্যদের কাছেও যান এবং তাঁদেরও হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

   

জাহাঙ্গির খানের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী একজন পুলিশ অবজারভার সরাসরি কোনও প্রার্থী বা তাঁর পরিবারের সঙ্গে এভাবে যোগাযোগ করতে পারেন না। তার চেয়েও বড় কথা এটা সংবিধান বিরুদ্ধ। তিনি বলেন, “যদি কিছু বলার থাকে, তা হলে সেটা এসপি বা আইসিকে জানানো উচিত। বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়ার কোনও নিয়ম নেই।” তাঁর দাবি, এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

আরও দেখুনঃ ইভিএম কাঁধে বুথে পাড়ি ভোটকর্মীদের! রানাঘাট-কৃষ্ণনগরে ‘নিশ্ছিদ্র’ নিরাপত্তা কমিশনের

এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জাহাঙ্গির খান সরাসরি অভিযোগ করেছেন, “বিজেপিকে সাহায্য করতে গিয়েই এরা বেআইনি কাজ করছে। তৃণমূল কর্মী ও নেতাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে, কারণ ওরা জানে ভোটে জিততে পারবে না।” তাঁর সাফ কথা, এই ধরনের হুমকিতে তারা ভীত নন এবং রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবেন।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট পুলিশ অবজারভারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে সূত্রের খবর, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় রিপোর্ট তলব করা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের সময় প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে কোনও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠলে তা গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।