১৮০ থেকে ১৯০ আসন জিততে পারে বিজেপি! মত বিশ্লেষকদের

bjp-180-190-seats-prediction-west-bengal-election-analysis

কলকাতা: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার আগেই বাড়ল উত্তেজনা। (BJP)দেশের প্রখ্যাত পিসিফোলজিস্ট এবং ম্যাট্রিজের এক বিশ্লেষক সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে লড়াই এতটাই কঠিন যে, শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয়ের ব্যবধান মাত্র ১৫ থেকে ২০টি আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি গ্রাউন্ড সেন্টিমেন্ট বিশ্লেষণে ভুল হয়, তাহলে বিজেপি একাই ১৮০ থেকে ১৯০টি আসন জিতে নিতে পারে।

“মাঠে পরিবর্তন যেমন চোখে পড়ছে, তেমনই তা ডেটাতেও স্পষ্ট,” এই কথাটি বলতে গিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এবারের নির্বাচনে শুধু পুরনো সমীকরণ কাজ করবে না। মানুষের মনে একটা বড় পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, যা অনেকেই এখনও পুরোপুরি ধরতে পারছেন না।ম্যাট্রিজের এই বিশ্লেষকের মতে, বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস সামান্য এগিয়ে থাকলেও, বিজেপির ভোট শেয়ারে ধারাবাহিক উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

   

আরও দেখুনঃ ‘পরিবারকে হুমকি দেওয়া সংবিধান বিরুদ্ধ!’ মত জাহাঙ্গীরের

প্রথম পর্যায়ের ভোটের পর মাঠ থেকে যে রিপোর্ট এসেছে, তাতে অনেক জায়গায় বিজেপির হয়ে একটা ‘চেঞ্জের’ আবেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকা, হিন্দু-প্রধান বুথ এবং কিছু সংখ্যালঘু-প্রভাবিত অঞ্চলেও ঐতিহ্যগত ভোটের ধরন ভাঙছে বলে তথ্য উঠে আসছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলার রাজনীতি অত্যন্ত জটিল। এখানে শেষ মুহূর্তের সুড়সুড়ি, স্থানীয় নেতাদের প্রভাব, ক্যাডারদের সংগঠন এবং ভোটারদের শেষ দিনের মনোভাব অনেক কিছু বদলে দিতে পারে।

যদি তৃণমূলের সংগঠন শক্তিশালী থাকে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কাজ করে, তাহলে ১৫-২০ আসনের ব্যবধানে তৃণমূল সরকার গঠন করতে পারে। কিন্তু যদি মাঠের বাস্তবতা এবং ডেটার মধ্যে বড় অমিল দেখা যায়, তাহলে বিজেপির জন্য ১৮০-১৯০ আসনের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তৃণমূল শিবির এটিকে ‘বিজেপির মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা’ বলে উড়িয়ে দিলেও, দলের অনেক নেতাই স্বীকার করছেন যে, এবারের নির্বাচনে আগের মতো একতরফা আধিপত্য নেই। বিজেপি নেতারা অবশ্য এই বিশ্লেষণকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, মাঠে যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বেকারত্ব, দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং ‘দিদির সরকার’-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ তা ধীরে ধীরে ভোটে রূপ নিচ্ছে।

পিসিফোলজিস্ট আরও বলেছেন, এবারের নির্বাচনে অনেক আসনেই ভোটের ব্যবধান খুবই কম হতে পারে। ৬৫-৭০টি মার্জিনাল আসন রয়েছে, যেখানে ১-২ শতাংশ ভোটের সুইং-ই ফলাফল ঘুরিয়ে দিতে পারে। এছাড়া নির্বাচনী রোল সংশোধন, নতুন ভোটার এবং অনেকের নাম বাদ পড়ার ঘটনাও ফলাফলকে প্রভাবিত করবে।