
মুর্শিদাবাদ: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেদায়ের করা এফআইআর (Humayun Kabir)নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেউপি) প্রধান হুমায়ুন কবির স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন যে, কোনো অন্যায় বা হুমকির অভিযোগ থাকলে তদন্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক। একই সঙ্গে রাজ্যে চলমান বুলডোজার অভিযান নিয়েও তিনি সমর্থন জানিয়েছেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে মানে নিশ্চয়ই তিনি কোনো অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অথবা কাউকে হুমকি দিয়েছিলেন। তদন্তকারী অফিসার বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। আইন নিজের পথে চলবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি সত্যিই কোনো অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে কেউই ঊর্ধ্বে নয়। সাধারণ মানুষের কাছে এটাই প্রত্যাশা।”একই সাক্ষাৎকারে বুলডোজার অভিযান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবির জোর দিয়ে বলেন, “যদি অবৈধ দখল বা এনক্রোচমেন্ট থাকে, তাহলে বুলডোজার অবশ্যই ভেঙে দিতে হবে।
আরও দেখুনঃ প্লে-অফের জন্য আর একটি ম্যাচের পরীক্ষা কোহলিদের, প্রতিপক্ষ পঞ্জাব
সরকারি জমি, রেল জমি বা জনসাধারণের জায়গা দখল করে কেউ ব্যবসা করতে পারে না। আইন সবার জন্য সমান।”মুর্শিদাবাদের স্থানীয় ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। বিজেপি নেতারা এই এফআইআরকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এটিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে একটি ছোট আঞ্চলিক দলের প্রধান হুমায়ুন কবিরের নিরপেক্ষ ও স্পষ্ট মন্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা অবশ্য দুই দিকেই চিন্তিত। বুলডোজার অভিযান প্রসঙ্গে রাজ্যজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরসহ বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ চলছে। অনেকে এটিকে দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যার সমাধান বলে মনে করছেন। তবে যাদের ছোট দোকানপাট বা ঘরবাড়ি উচ্ছেদ হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগও কম নয়।
হুমায়ুন কবিরের মতো নেতাদের সমর্থন এই অভিযানকে আরও বৈধতা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এজেউপি প্রধানের এই মন্তব্য উভয় দলের জন্যই অস্বস্তিকর। একদিকে তিনি আইনের শাসনের কথা বলছেন, অন্যদিকে অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা আশা তৈরি হচ্ছে যে, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে আইন ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

