
গুয়াহাটির একটি আদালত অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার (Himanta Sarma) বিরুদ্ধে “মানহানিকর বক্তব্য” প্রদান থেকে কংগ্রেসের তিন শীর্ষ নেতা গৌরব গগৈ, ভূপেশ বঘেল এবং জিতেন্দ্র সিংকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দায়ের করা ৫০০ কোটি টাকার মানহানির মামলার প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ জারি করা হয়। পাশাপাশি একটি প্রভাবশালী অসমিয়া দৈনিক পত্রিকাকেও একই ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বুধবার মামলার আবেদনকারীর আইনজীবীর বক্তব্য শোনার পর সিভিল জজ (সিনিয়র ডিভিশন) নম্বর ১ ন্যায়নজ্যোতি শর্মা একটি ‘অ্যাড-ইন্টারিম ইনজাংশন’ জারি করেন। এই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে গৌরব গগৈ, ভূপেশ বঘেল ও জিতেন্দ্র সিংকে আদালতে হাজিরা দেওয়া পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কোনও রকম মানহানিকর মন্তব্য করা, প্রকাশ করা, প্রচার করা বা ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট দৈনিক পত্রিকাকেও এ ধরনের বিষয়বস্তু প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল দেবজিত সাইকিয়া জানান, মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে আদালতে (Himanta Sarma) সওয়াল করতে গিয়ে তাঁর আইনজীবী যুক্তি দেন যে, ২০০১ সাল থেকে তিনি যতগুলি নির্বাচন লড়েছেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর এবং তাঁর পরিবারের যাবতীয় সম্পত্তি ও সম্পদের বিবরণ হলফনামার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ফলে তাঁর সম্পত্তি নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার কোনও অবকাশ নেই। অ্যাডভোকেট জেনারেল আরও বলেন, রাজ্য সরকারের বিধি অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রীসহ সব মন্ত্রী এবং শীর্ষ সরকারি আধিকারিকদের প্রতিবছর নিজেদের সম্পত্তির বিবরণ ঘোষণা করতে হয়। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা(Himanta Sarma) নিয়মিতভাবে সেই প্রক্রিয়া মেনে চলেছেন এবং প্রতি বছর তাঁর সম্পদের বিবরণ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলি অসত্য ও মানহানিকর বলেই আদালতে দাবি করা হয়েছে।
এই (Himanta Sarma) মামলাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেস নেতাদের তরফে সাম্প্রতিক সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। সেই মন্তব্যগুলিকেই মানহানিকর দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী ৫০০ কোটি টাকার দেওয়ানি মানহানির মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চলছে। আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে আপাতত সংশ্লিষ্ট নেতাদের প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে এটি চূড়ান্ত রায় নয়; মামলার পরবর্তী শুনানিতে উভয় পক্ষের যুক্তি-বিতর্কের ভিত্তিতে আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। আদালতে হাজিরা দেওয়ার পর বিবাদীপক্ষ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার সুযোগ পাবে।

