আইএএস বদলি নিয়ে নন্দিনীকে কড়া নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন (West Bengal)ফের মুখোমুখি সংঘাতে জড়াল নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকার। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষকদের বদলি ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
eci-vs-west-bengal-government-sir-transfer-row

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন (West Bengal)ফের মুখোমুখি সংঘাতে জড়াল নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকার। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষকদের বদলি করায় কড়া চিঠি পাঠাল ইসিআই। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অবিলম্বে তিন আইএএস আধিকারিকের বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনের পূর্বানুমতি নিতে হবে।

মঙ্গলবার ইসিআই সচিব সুজিত কুমার মিশ্র পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, রাজ্য সরকারের জারি করা বদলির নির্দেশ কমিশনের ২৭ অক্টোবর ২০২৫-এর নির্দেশিকার সরাসরি লঙ্ঘন। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, এসআইআর চলাকালীন কোনওভাবেই ভোটার তালিকা সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের কমিশনের অনুমতি ছাড়া বদলি করা যাবে না।

   

‘রানওয়ে দেখা যাচ্ছে না!’ অজিত পওয়ারের মৃত্যুর আগে হাড়হিম করা শেষ ১৬ মিনিট

জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকার সম্প্রতি তিন আইএএস আধিকারিক অশ্বিনী কুমার যাদব, রন্ধীর কুমার ও স্মিতা পান্ডেকে বিভাগীয় বদলি ও অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়। অশ্বিনী কুমার যাদব উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের, রন্ধীর কুমার উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতা উত্তরের এবং স্মিতা পান্ডে পশ্চিম ও পূর্ব বর্ধমান এবং বীরভূমের ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ইসিআই জানিয়ে দিয়েছে, এই আধিকারিকরা কার্যত নির্বাচন কমিশনের ‘ডিমড ডেপুটেশন’-এ রয়েছেন এবং তাঁদের বদলি করার কোনও অধিকার রাজ্য সরকারের নেই।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কমিশনের ২৮ নভেম্বর ২০২৫-এর নির্দেশ অনুযায়ী এই আধিকারিকদের ডিভিশনাল কমিশনারদের সঙ্গে মিলিয়ে ইলেক্টোরাল রোল অবজারভার নিযুক্ত করা হয়েছিল। সেই কারণেই রাজ্যের বদলির বিজ্ঞপ্তিগুলি অবৈধ। কমিশন কড়া ভাষায় জানিয়েছে, অবিলম্বে বদলি বাতিল করে ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ দুপুর ৩টার মধ্যে তার লিখিত প্রমাণ পাঠাতে হবে।

এই ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে ভাঙচুরের ঘটনায় তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এফআইআর না করায় ক্ষুব্ধ হয়েছিল কমিশন। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্তর পর্যন্ত বিতর্ক গড়ায়।

এছাড়াও গত বছর আগস্টে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভা কেন্দ্রে ১২৭ জন ভুয়ো ভোটার নথিভুক্তির অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় চার সরকারি আধিকারিক ও এক চুক্তিভিত্তিক কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় ইসিআই। যদিও ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত এফআইআর দায়ের হয়নি বলে অভিযোগ।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google