প্রথম দফার নির্বাচনের ৭২ ঘন্টা আগেই হিজাবে না কমিশনের

বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার আগে বাকি মাত্র ৭২ ঘন্টা। তার আগেই নির্বাচন কমিশন (ECI face verification) একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে। বোরখা…

eci-face-verification-veiled-women-voters-west-bengal-election-rule

বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার আগে বাকি মাত্র ৭২ ঘন্টা। তার আগেই নির্বাচন কমিশন (ECI face verification) একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে। বোরখা বা মুখ ঢাকা অবস্থায় ভোট দিতে আসা মহিলাদের জন্য এবার বাধ্যতামূলক মুখ যাচাইকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবং এই যাচাইকরণ হবে ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটার বাইরে। ১৯৯৪ সালের পর এই প্রথম এমন কড়া নিয়ম চালু হচ্ছে।নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুসারে, বোরখা, ঘোমটা, স্কার্ফ বা অন্য কোনো আবরণে মুখ ঢাকা মহিলা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে ঢোকার আগেই আলাদা কাউন্টারে মুখ দেখিয়ে পরিচয় যাচাই করতে হবে।

এই কাজ করবেন শুধুমাত্র মহিলা আধিকারিকরা। অঙ্গনওয়াড়ি সেবিকা, মহিলা পোলিং অফিসার এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) মহিলা সদস্যরা এই দায়িত্বে থাকবেন। এতে করে মহিলা ভোটারদের সম্মান ও গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।এই নতুন ব্যবস্থাকে অনেকে ‘বোরখাকে ছদ্মবেশ হিসেবে ব্যবহারের’ বিরুদ্ধে বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল যে, কিছু জায়গায় বোরখার আড়ালে অন্য ব্যক্তি এসে ভোট দিয়ে যায়।

   

আরও দেখুনঃ গম পাচার তদন্তে বড় পদক্ষেপ, নুসরতকে তলব করল ED

প্রক্সি ভোটিং এবং ভুয়ো ভোটারের সমস্যা রুখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে ‘লক্ষ্মণরেখা’ টেনে দেওয়া হবে। শুধুমাত্র যাচাই হয়ে যাওয়া ভোটাররাই সেই সীমার মধ্যে প্রবেশ করতে পারবেন।এই ব্যবস্থা বাংলার নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনার জন্য নেওয়া হয়েছে বলে কমিশন মনে করছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ কয়েকটি সংবেদনশীল এলাকায় এই নিয়ম কড়াভাবে প্রয়োগ করা হবে।

সিসিটিভি, বডি ক্যামেরা, এআই সার্ভেইল্যান্স এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যাপক মোতায়েনের সঙ্গে এই নতুন নিয়ম যুক্ত হয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসসহ কয়েকটি দল এটিকে ‘মুসলিম মহিলাদের টার্গেট’ করা বলে অভিযোগ তুলেছে। তারা বলছে, এতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগছে এবং মহিলাদের ভোটাধিকারে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

অন্যদিকে বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধী দল এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলছে, “ভোট চুরি আর গুন্ডামির দিন শেষ। এবার সত্যিকারের ভোটাররাই ভোট দেবেন।”নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক বলেন, “আমরা কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নই। আমরা শুধু নিশ্চিত করতে চাই যে, প্রত্যেক ভোটারের পরিচয় সঠিকভাবে যাচাই হয়। মহিলাদের সম্মান রক্ষা করেই এই প্রক্রিয়া চালানো হবে।” অঙ্গনওয়াড়ি সেবিকাদের যুক্ত করার সিদ্ধান্তকে অনেকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন, কারণ তাঁরা স্থানীয় এবং মহিলাদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারেন।