২০২১ এ ১৩০ পার করতে পারত বিজেপি! ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য

bjp-130-seats-claim-west-bengal-2021-election-rigging-controversy

কলকাতা: বাংলায় ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ঘিরে। (BJP 130 seats claim)বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে গণনার দিনেই নাকি ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে বহু আসনে ফল ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস ৫০-৬০টি আসনে “রিগিং”-এর মাধ্যমে জয় পেয়েছে যা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

বিজেপি আরও বলেছে ভোটগণনার সময় নাকি একাধিক কেন্দ্রে বিরোধী দল বিজেপির এজেন্ট ও কর্মীদের কাউন্টিং বুথ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপরই নাকি ভোটের হিসাব পাল্টে ফেলার সুযোগ তৈরি হয়। তাঁর অভিযোগ, গণনার সময়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী যেমন সিআরপিএফ বা সিএপিএফ কাউন্টিং হলের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি, ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই পরিস্থিতিতে ভোটের প্রকৃত ফলাফল প্রতিফলিত হয়নি বলেই তাঁর দাবি।

   

আরও দেখুনঃ বাংলার বুকে উর্দু বললে…..! ফিরহাদকে নিশানা করে বিস্ফোরক যোগী

এই অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গেছে। বিজেপির একাংশ এই দাবিকে সমর্থন করে বলছে, ২০২১ সালের নির্বাচনে বহু জায়গায় অনিয়মের অভিযোগ তারা আগেও তুলেছিল। তাঁদের বক্তব্য, যদি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হয়, তাহলে সত্য প্রকাশ্যে আসবে। এমনকি কেউ কেউ দাবি করছেন, যদি এই অভিযোগ সত্যি হয়, তাহলে বিজেপির আসনসংখ্যা ১৩০-এরও বেশি হতে পারত।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছে। দলের নেতারা একে “ভিত্তিহীন” এবং “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই ভোটগ্রহণ ও গণনা হয়েছে। তাই এত বড় মাপের কারচুপি হওয়া সম্ভব নয়। তৃণমূলের মতে, নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই বিরোধীরা এই ধরনের অভিযোগ তুলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অভিযোগ নতুন নয়, বিশেষ করে যখন নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। তবে এত বড় পরিসরে কারচুপির অভিযোগ প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ ভোটগ্রহণ ও গণনার প্রতিটি ধাপেই একাধিক স্তরের নজরদারি থাকে নির্বাচন কমিশন, পর্যবেক্ষক, রাজনৈতিক দলের এজেন্ট সব মিলিয়ে একটি জটিল প্রক্রিয়া। ফলে কোনও অনিয়ম হলে তা ধরা পড়ার সম্ভাবনাও থাকে। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে এবারের নির্বাচন নিয়ে কমিশন বারবার দাবি করেছে যে, ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হবে।