
কলকাতা: রাত পোহালেই প্রথম দফার নির্বাচন। (Yogi Adityanath)তার আগেই কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে নিশানা করে হুঁশিয়ারি জারি করলেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ফিরহাদ একবার বলেছিলেন একদিন বাংলার অর্ধেক জনগণ উর্দুতে কথা বলবে। সেই মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই এবার নিশানা সাধলেন যোগী। নদিয়ার জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন বাংলায় শুধু বাংলাই চলবে সেখানে উর্দুর কোনও জায়গা নেই। যারা উর্দু বলতে চান তারা অন্য দেশে যান যেখানে উর্দু চলে।
#WATCH | Nadia, West Bengal: Uttar Pradesh Chief Minister Yogi Adityanath says, “A TMC mayor claims that he will make half of Bengal’s population speak Urdu. I have come here to tell him that, on the soil of Bengal, only Bangla shall be spoken, and through the medium of Bengali… pic.twitter.com/jmIPe5YPkg
— ANI (@ANI) April 22, 2026
নদিয়ার সভা থেকে যোগী আদিত্যনাথ বলেন ফিরহাদ বলেছেন যে বাংলার অর্ধেক মানুষকে উর্দু ভাষায় কথা বলতে বাধ্য করা হবে। এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমি এখানে বলতে এসেছি, বাংলার মাটিতে শুধু বাংলা ভাষাই কথা বলা হবে, আর সেই বাংলা সংস্কৃতির মাধ্যমেই ভারত নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবেই ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নকে সামনে আনা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ ‘কলকাতা বস্তির শহর’! অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মমতাকে বিঁধে ‘টাটা, গুড বাই’ বার্তা শাহের
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। দুর্গাপুজোয় মদন মিত্রের গান নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন যোগী। তিনি বলেন, “কেউ কেউ বলেন তাঁদের হৃদয়ে কাবা আর চোখে মদিনা রয়েছে। কিন্তু আমি বলতে চাই, নদিয়া তা মেনে নেবে না। নদিয়ার ডাক হল আমাদের হৃদয়ে মহাকালী, আর চোখে রয়েছেন চৈতন্য মহাপ্রভু।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগকে সামনে এনে ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই মন্তব্য ঘিরে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। দলের নেতাদের দাবি, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় মেরুকরণ তৈরি করতে চাইছে এবং এই নির্বাচনে এটাই তাদের অস্ত্র। তাঁদের বক্তব্য, বাংলার সংস্কৃতি বহুত্ববাদী এখানে বাংলা ভাষা যেমন আছে, তেমনই অন্যান্য ভাষা ও সংস্কৃতিরও সহাবস্থান রয়েছে। এই ধরনের মন্তব্য সেই ঐতিহ্যের পরিপন্থী বলেই মনে করছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে যোগীর বক্তব্যকে সমর্থন করা হয়েছে। দলের নেতাদের মতে, তিনি বাংলার ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক শিকড়ের কথাই তুলে ধরেছেন। তাঁদের দাবি, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার প্রশ্নে এই বার্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি তাঁরা অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল সরকার সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতি করছে, যার বিরুদ্ধে সরব হওয়াই প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় এই ধরনের বক্তব্য প্রায়শই সামনে আসে। বিশেষ করে যখন ভোটের লড়াই তীব্র হয়, তখন ভাষা ও ধর্মীয় পরিচয়ের মতো বিষয়গুলি বড় ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়, যা নির্বাচনের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া একেবারেই একমুখী নয়। কেউ কেউ মনে করছেন, এই ধরনের বক্তব্য সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে এবং তা এড়ানো উচিত। আবার অন্য একাংশের মতে, রাজনৈতিক নেতারা তাঁদের মতামত প্রকাশ করতেই পারেন, এবং শেষ পর্যন্ত ভোটাররাই সিদ্ধান্ত নেবেন কোন বক্তব্য তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য।

