রায়দিঘি: দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘির কৌতলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বুধবার সকালে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। (Bappa Halder)কাটমানি নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান যমুনা হালদারের স্বামী বাপ্পা হালদার। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আবাস যোজনা এবং একশো দিনের কাজের প্রকল্পে নাম করিয়ে গরিব মানুষের কাছ থেকে বেআইনিভাবে টাকা নেওয়া হচ্ছিল। সেই ক্ষোভই শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে বিস্ফোরণের আকার নেয়।
#দুয়ারে_গনধোলাই #TMC😂
রায়দীঘি বিধানসভা কৌতলা গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী বাপ্পা হালদার কেলানি খাচ্ছে।
সাধারণ মানুষকে ঘর দিয়ে তাদের কাছে থেকে কাটমানি তুলেছিল,কৌতলা ১৬৬ নম্বর বুথের (প্রধানের নিজের বুথ) লোকজন আজ সকালে তাকে ধরেছে।😂😂😂😂 pic.twitter.com/RZkVWsuO8O— ॐ𝐒𝐨𝐮𝐯𝐢𝐤••卐 (@Empire_hindu9) May 27, 2026
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কৌতলা ১৬৬ নম্বর বুথ এলাকায় সকালেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, বহুদিন ধরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমছিল। আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়া এবং জব কার্ডে কাজ নিশ্চিত করার নাম করে টাকা নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু কোনও সুরাহা না মেলায় আজ সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে বাপ্পা হালদারকে ঘিরে ফেলেন।
আরও দেখুনঃ প্লে-অফের মহারণ, ট্রাভিসেককে থামাতে আর্চারই ভরসা রাজস্থানের
ঘটনার সময় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। গ্রামবাসীরা তাঁর কাছ থেকে নেওয়া টাকার হিসাব এবং ফেরতের দাবি জানান। উত্তেজিত জনতা তাঁকে ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ দেখায় এবং পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠে। অভিযোগ, সেই সময় ধস্তাধস্তির পরিস্থিতিও তৈরি হয় এবং তাঁকে মারধর করা হয়। যদিও পুরো ঘটনায় প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু আজকের ঘটনা নয়, দীর্ঘদিন ধরেই কৌতলা অঞ্চলে পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতি নিয়ে অসন্তোষ জমছিল। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে ‘কাটমানি’ দিতে হত। দরিদ্র পরিবারগুলো বাধ্য হয়েই টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছিল বলে অভিযোগ। সেই ক্ষোভই আজ বিস্ফোরণে রূপ নেয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন বাসিন্দার কথায়, বহুবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে মানুষের মধ্যে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। সকালের এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশ পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
রাজনৈতিকভাবে এই ঘটনা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের গ্রামীণ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে। অভিযোগ উঠছে, নিচু স্তরের জনপ্রতিনিধি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ এখন প্রকাশ্যে আসছে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির দাবি, পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও প্রকট হয়েছে। অন্যদিকে শাসকদলের একাংশের মতে, কিছু অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, প্রশাসন এই ঘটনার তদন্তে কী পদক্ষেপ নেয় এবং অভিযোগগুলির সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয়। স্থানীয় মানুষদের একাংশ ইতিমধ্যেই দাবি তুলেছেন, শুধু এই ঘটনাই নয়, গোটা এলাকায় পঞ্চায়েত ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রয়োজন।
কৌতলার এই ঘটনার পর গ্রামজুড়ে এখনও থমথমে পরিস্থিতি রয়েছে। প্রশাসন নজর রাখছে যাতে পরিস্থিতি আর উত্তপ্ত না হয়। তবে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই ধরনের ঘটনা আগামী দিনে রাজ্যের গ্রামীণ রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।





