তৃণমূল সমর্থকের ছাতায় বাংলাদেশের পতাকা! বিতর্ক উস্কাল বিজেপি

bangladesh-flag-tmc-supporter-controversy-west-bengal

কলকাতা: বাংলার ভোটারের ছাতায় বাংলাদেশের পতাকা! (Bangladesh flag)এক নজরে সাধারণ মনে হলেও, ঘনিষ্ঠভাবে দেখলে চোখ কপালে উঠে যায়। দৈনিক ভাস্করের এক সাক্ষাৎকারে ধরা পড়েছে এমন এক দৃশ্য, যা পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা নিয়ে চলতি বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিয়েছে। সাক্ষাৎকারটি ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের এক সমর্থকের সঙ্গে। প্রথম দৃষ্টিতে কোনো অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ে না সাধারণ এক ভোটার, তৃণমূলের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন।

কিন্তু তাঁর হাতে ধরা ছাতাটির লোগোর দিকে একটু মনোযোগ দিলেই সবকিছু বদলে যায়। সেই ছাতায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।এই ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে। বিজেপি নেতারা এই দৃশ্যকে হাতিয়ার করে বলছেন, “এরাই সেই মানুষ, যাদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার তালিকায় রেখে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চান।” তাঁদের দাবি, বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার লিস্টে যুক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের ভোটের ভরসাতেই তৃণমূল সরকার চলছে।

   

আরও দেখুনঃ ‘মায়ের কোল খালি করেছে তৃণমূল!’ আরজি কর নির্যাতিতার মাকে পাশে নিয়ে হুঙ্কার মোদীর

বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এমন ঘটনা নাকি নিয়মিত। বিজেপির অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় (SIR প্রক্রিয়া) হিন্দু ভোটারদের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে, অথচ অনুপ্রবেশকারীদের নাম রেখে দেওয়া হয়েছে। এই ছাতার ছবিটি তাঁদের কাছে সেই অভিযোগের ‘নীরব প্রমাণ’।তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে স্পষ্ট জবাব আসেনি। দলের নেতারা বলছেন, এটা শুধুই একটি ছাতা, কোনও রাজনৈতিক অর্থ নেই।

কিন্তু বিরোধীরা মানতে নারাজ। তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন একজন ভারতীয় ভোটার কেন বাংলাদেশের পতাকা সম্বলিত ছাতা ব্যবহার করবেন? বিশেষ করে যখন রাজ্যে অনুপ্রবেশ, জাল ভোটার এবং ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের বসবাস, তাঁদের ভোটার কার্ড পাওয়া এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিযোগ বারবার উঠেছে। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের রিপোর্টে এমন অনেক ঘটনার উল্লেখ আছে।

এই ঘটনা শুধু একটি ছাতার গল্প নয়। এটি বাংলার ভোট রাজনীতির গভীর সংকটকে তুলে ধরছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বারবার দাবি করে এসেছে যে তাঁরা সব ধর্মের মানুষের জন্য কাজ করেন। কিন্তু বিরোধীরা বলছেন, আসলে এটা ‘ভোট ব্যাঙ্ক’ রাজনীতি। লক্ষ্মীর ভান্ডার, আবাস যোজনা ইত্যাদি প্রকল্পের সুবিধা দিয়ে সীমান্তের মানুষদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ।

অন্যদিকে, বিজেপি এবং অন্যান্য বিরোধী দল স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাল ভোটার বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। কেন্দ্রীয় সরকারও এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে।সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন প্রশ্ন উঠছে কে আসল ভোটার, আর কে অনুপ্রবেশকারী? একটি ছাতায় বাংলাদেশের পতাকা দেখে অনেকে বলছেন, “কথার দরকার নেই, সত্যটা নিজেই প্রকাশ পায়।”

এই দৃশ্যটি রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও জনসংখ্যাগত পরিচয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, মালদহের মতো জেলায় এমন অভিযোগ বেশি। অনেক পরিবার বলছেন, তাঁদের এলাকায় ভাষা, সংস্কৃতি ও জনসংখ্যার অনুপাত বদলে যাচ্ছে।বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি উঠেছে, ভোটার তালিকা পুনরায় যাচাই করা হোক। বিজেপি নেতারা বলছেন, যতক্ষণ না সীমান্ত সুরক্ষিত হয় এবং জাল ভোটার বাদ দেওয়া হয়, ততক্ষণ বাংলার স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি বিপন্ন থাকবে। তৃণমূল অবশ্য এসব অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে।