নয়াদিল্লি: ভারতের প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটল। স্বাধীনতার পর এই প্রথম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) তার দীর্ঘদিনের ঠিকানা সাউথ ব্লক থেকে স্থানান্তরিত হল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ নয়া দিল্লিতে ‘সেবা তীর্থ’ নামে একটি অত্যাধুনিক সমন্বিত কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করলেন, যা এখন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হিসেবে কাজ করবে।
‘সেবা তীর্থ’ কমপ্লেক্সের বিশেষত্ব
এই স্থানান্তরের মুহূর্তটিকে সরকার ভারতের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ইতিহাসে একটি “রূপান্তরকারী মাইলফলক” হিসেবে বর্ণনা করেছে। আধুনিক পরিকাঠামোয় নির্মিত এই কমপ্লেক্সটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যনির্বাহী শাখাগুলোকে এক ছাদের নিচে নিয়ে এসেছে। এই কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (সেবা তীর্থ-১), জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয় (সেবা তীর্থ-২) এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয় (সেবা তীর্থ-৩) অবস্থিত। আগে এগুলো আলাদা আলাদা স্থানে ছিল।
এছাড়াও কমপ্লেক্সটিতে ‘কর্তব্য ভবন ১ ও ২’ রয়েছে, যেখানে অর্থ, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, শিক্ষা, আইন ও বিচারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় স্থানান্তরিত হবে। এটি ডিজিটালভাবে সংযুক্ত অফিস, কেন্দ্রীভূত অভ্যর্থনা এবং উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থাসম্পন্ন একটি স্মার্ট ক্যাম্পাস। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রধানমন্ত্রী ১০০ টাকার একটি স্মারক মুদ্রাও প্রকাশ করেন।
নতুন অফিস থেকে মোদীর প্রথম ৪টি সিদ্ধান্ত PMO shift to Seva Tirth
‘সেবা তীর্থ’ কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করার পরপরই প্রধানমন্ত্রী মোদী কৃষক, নারী, যুবসমাজ এবং সমাজের দুর্বল শ্রেণির কল্যাণে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ অনুমোদন করেছেন-
১. পিএম রাহাত স্কিম (PM Rahat scheme): সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য তাৎক্ষণিক চিকিৎসার লক্ষ্যে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এর আওতায় দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিরা হাসপাতাল বা ট্রমা সেন্টারে ভর্তির পর ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবেন, যার খরচ ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
২. লক্ষপতি দিদি লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণ: স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নারী সদস্যদের ক্ষমতায়নের জন্য সরকার ‘লক্ষপতি দিদি’ প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণ করেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই ৩০ লক্ষ মহিলাকে লাখপতি বানানোর লক্ষ্য পূরণ হওয়ায়, এখন এই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে মার্চ ২০২৯ সালের মধ্যে ৬ কোটি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৩. কৃষি পরিকাঠামো তহবিল (AIF) বৃদ্ধি: কৃষকদের সহায়তা এবং কৃষি ভ্যালু চেইন শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কৃষি পরিকাঠামো তহবিলের বরাদ্দ দ্বিগুণ করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই তহবিলের আকার ১ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লক্ষ কোটি টাকা করা হয়েছে।
৪. স্টার্টআপ ইন্ডিয়া ফান্ড অফ ফান্ডস ২.০: তরুণ উদ্যোক্তা এবং উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করার জন্য ১০,০০০ কোটি টাকার নতুন তহবিল অনুমোদন করা হয়েছে। এটি মূলত ডিপ টেক, প্রাথমিক পর্যায়ের উদ্যোগ এবং উন্নত উৎপাদন খাতে সহায়তা করবে।
পুরানো পিএমও-র ভবিষ্যৎ
সাউথ এবং নর্থ ব্লকে অবস্থিত পুরনো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় খালি হওয়ার পর সেটিকে একটি পাবলিক মিউজিয়ামে রূপান্তরিত করা হবে। মিউজিয়ামটির নাম হবে ‘যুগ যুগীন ভারত সংগ্রহালয়’। এই যাদুঘর তৈরির প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য ফ্রান্সের মিউজিয়াম ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।




















