কলকাতা: ভারতে আয়কর আইন, ২০২৫-এর অধীনে প্রস্তাবিত খসড়া আয়কর বিধি, (PAN rule)২০২৬-এ প্যান (PAN) সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এই খসড়া নিয়মগুলি কার্যকর হলে সাধারণ মানুষের নগদ লেনদেন, সম্পত্তি ক্রয়, গয়না কেনা থেকে শুরু করে গাড়ি কেনা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্যান ব্যবহারের নিয়মে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। যদিও এগুলি এখনও খসড়া পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত নিয়ম ১ এপ্রিল ২০২৬-এর আগে ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, হাউস রেন্ট অ্যালাউন্স (HRA) সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতদিন দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা ও চেন্নাইকে মেট্রো শহর হিসেবে ধরা হত। নতুন প্রস্তাবে বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পুনে ও আহমেদাবাদকেও এই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এই শহরগুলিতে বসবাসকারী কর্মচারীরা HRA-তে বাড়তি কর ছাড়ের সুবিধা পেতে পারেন।
নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রেও বড় ছাড়ের প্রস্তাব রয়েছে। নতুন খসড়া অনুযায়ী, আর্থিক বছরে মোট নগদ জমা বা উত্তোলন ১০ লক্ষ টাকার নিচে হলে প্যান দেওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে না। আগে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকার বেশি নগদ জমা দিলে প্যান দেখাতে হত। ফলে ছোট ও মাঝারি লেনদেনে প্যানের ঝামেলা কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বড় অঙ্কের খরচের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হয়েছে। হোটেল, ব্যাঙ্কোয়েট, রেস্তোরাঁ বা অনুরূপ খাতে এক লক্ষ টাকার বেশি বিল হলে প্যান দেখানো বাধ্যতামূলক হবে। আগে এই সীমা ছিল ৫০ হাজার টাকা।
গয়না কেনার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। নতুন নিয়মে ১০ লক্ষ টাকার বেশি গয়না কিনতে গেলে প্যান দেখানো বাধ্যতামূলক হবে। একইভাবে গাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাঁচ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের গাড়ি বা দু’চাকা কিনলে প্যান লাগবে। আগে সব ধরনের গাড়ি কেনার ক্ষেত্রেই প্যান বাধ্যতামূলক ছিল।
সম্পত্তি লেনদেনের ক্ষেত্রেও সীমা বাড়ানো হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের সম্পত্তি ক্রয়, বিক্রয়, উপহার বা যৌথ উন্নয়ন প্রকল্পে প্যান লাগবে। আগে এই সীমা ছিল ১০ লক্ষ টাকা। বিমা খাতেও নতুন নিয়মের প্রস্তাব এসেছে। এখন থেকে বিমা সংস্থার সঙ্গে যেকোনো অ্যাকাউন্ট-ভিত্তিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রেই প্যান বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। আগে বছরে ৫০ হাজার টাকার বেশি প্রিমিয়াম হলে তবেই প্যান লাগত।
বেতন ও ভাতার ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। কোম্পানির দেওয়া ১৬০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত সুবিধা দেওয়া হতে পারে। ১৬০০ সিসির বেশি ইঞ্জিন ক্ষমতার গাড়ির ক্ষেত্রে এই সীমা ১০ হাজার টাকা। এছাড়া ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহ দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা বা সিবিডিসি (ডিজিটাল রুপি)–কে আনুষ্ঠানিকভাবে ইলেকট্রনিক পেমেন্টের একটি মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
সমগ্র প্রস্তাবের লক্ষ্য হল ছোট লেনদেনে প্যান ব্যবহারের চাপ কমানো এবং বড় অঙ্কের খরচ বা সম্পদ লেনদেনে নজরদারি বাড়ানো। এতে করদাতাদের জন্য কিছু ক্ষেত্রে সুবিধা বাড়লেও উচ্চমূল্যের লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই নিয়মগুলি এখনও খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত আয়কর বিধি প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে কোন কোন প্রস্তাব কার্যকর হবে এবং কীভাবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনে তার প্রভাব পড়বে।




















