লখনউ: ধরা পড়তেই যোগী পুলিশের দাওয়াই! ৪০ বছর ধরে ভারতে লুকিয়ে থাকা পাকিস্তানি নাগরিকের চাঞ্চল্যকর গ্রেফতার। (Pakistani national)উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে পুলিশ এক পাকিস্তানি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে, যিনি ১৯৮০ সালে মা ও বোনদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা নিয়ে ভারতে এসেছিলেন। মায়ের মৃত্যুর পর তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভারতীয় পরিচয় তৈরি করে ১৪ বছর ধরে অবৈধভাবে দেশে থেকে গেছেন।
এই ঘটনা উন্মোচিত হওয়ায় জাতীয় নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।আরোপিত ব্যক্তির নাম সৈয়দ ওয়াসিদ আলি ওরফে ওয়াসিদ ইরশাদ। পাকিস্তানের নিউ করাচির বাসিন্দা তিনি। ১৯৮০ সালে মা বিলকিস ফাতিমা ও বোনদের সঙ্গে লং-টার্ম ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি দেশ ছাড়েননি।
আরও দেখুনঃ শীঘ্রই ভারত-জার্মানি সাবমেরিন চুক্তি, নৌবাহিনী পাবে বড় ধরনের সহায়তা
২০১২ সালে মায়ের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। অভিযোগ, তিনি তখন একটি সম্পূর্ণ জাল পরিচয় তৈরি করেন। নিজেকে সৈয়দ ওয়াসিদ আলি বলে পরিচয় দিয়ে সুশীলা বিহার, বুলন্দশহরের বাসিন্দা হিসেবে দেখান। আরও দাবি করেন, তাঁর বাবা ভারতীয় নাগরিক। এই জালিয়াতির ভিত্তিতে তিনি আধার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং পাসপোর্ট তৈরি করিয়ে নেন।বুলন্দশহর নগর পুলিশের তৎপরতায় এই জালিয়াতির জাল উন্মোচিত হয়।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, ওয়াসিদ ইরশাদ পাকিস্তানের নাগরিক। তাঁর জাল নথিপত্রগুলো খতিয়ে দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, এগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া। গ্রেফতারের পর তাঁকে জেলে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ পুরো ঘটনার গভীর তদন্ত চালাচ্ছে। কীভাবে তিনি এত বছর ধরে জাল নথি নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন, কারা তাঁকে সাহায্য করেছিল, কোন কোন জায়গায় তিনি থেকেছেন সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পাসপোর্ট অফিস, আধার কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকাও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশে পুলিশের এই তৎপরতা অনেকের কাছে ‘দাওয়াই’ বলে মনে হচ্ছে। রাজ্য পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, জাল নথি তৈরিকারী এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে আসছে। এই গ্রেফতারকে অনেকে সেই অভিযানেরই একটি সাফল্য বলে দেখছেন।
বিশেষ করে যখন একজন পাকিস্তানি নাগরিক ৪০ বছর ধরে ভারতে লুকিয়ে থেকে জাল পরিচয়ে বসবাস করছিলেন, তখন এটা শুধু একটি ব্যক্তিগত জালিয়াতি নয়, বৃহত্তর নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিতও বহন করে।স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন এত বছর ধরে কীভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গেলেন তিনি? তাঁর সঙ্গে আর কোনো নেটওয়ার্ক জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “এই ধরনের জালিয়াতি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। আমরা শুধু গ্রেফতারই করছি না, পুরো চক্র উন্মোচন করার চেষ্টা করছি।”এই ঘটনা দেশজুড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জাল নথির সমস্যাকে আবার সামনে এনেছে। গত কয়েক বছরে উত্তরপ্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্যে এমন অনেক ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা ও বড় শহরগুলোতে জাল আধার, পাসপোর্ট ও অন্যান্য নথি তৈরির চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রীয় সরকারও ভোটার তালিকা যাচাই, আধার লিঙ্কিং এবং নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া জোরদার করেছে।




















