Home World নামাজ পড়তে না যাওয়ায় মুসলিম ব্যাক্তিকে চরম শাস্তি জনতার

নামাজ পড়তে না যাওয়ায় মুসলিম ব্যাক্তিকে চরম শাস্তি জনতার

pakistan-mob-lynching-namaz-sindh-umerkot-incident

ইসলামাবাদ: পাকিস্তান থেকে আসা একটি মর্মান্তিক ভিডিও সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। (mob lynching)যেখানে দেখা যাচ্ছে এক শিয়া ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিকে ‘ধর্ম অবমাননার’ অজুহাতে উন্মত্ত জনতার হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের উমরকোট এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কেবল শারীরিক অসুস্থতা বা ব্যক্তিগত কারণে মসজিদে নামাজ পড়তে না আসার বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সূত্রপাত।

ওই ব্যক্তি দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় এলাকায় বসবাস করতেন। অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি নির্দিষ্ট সময় মসজিদে উপস্থিত হতে পারেননি এবং এরপরই একদল কট্টরপন্থী তাকে ঘিরে ধরে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাকে ‘ইশনিন্দা’ বা ব্লাসফেমির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে (যা অত্যন্ত সংবেদনশীল), শত শত মানুষ ওই ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে মারধর করছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই উগ্র ভিড়ের মধ্যে ছোট ছোট শিশুদেরও পাথর ছুঁড়তে এবং উল্লাস করতে দেখা গেছে, যা পাকিস্তানের সামাজিক ও শিক্ষাব্যবস্থার চরম অবক্ষয়কেই তুলে ধরছে।

   

আরও দেখুনঃ ফের নজরে বাংলাদেশ! হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণ-গণধ*র্ষণে*র অভিযোগ গাইবান্ধায়

তদন্তে দেখা গেছে, এই ধরণের ঘটনা পাকিস্তানে নতুন কিছু নয়। পাকিস্তানে ব্লাসফেমি আইন বা ইশনিন্দা আইনকে প্রায়শই ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। শিয়া বা অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে এর মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করা নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই অনেক সময় উন্মত্ত জনতা অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা করে।

এই ক্ষেত্রেও স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশ আক্রমণকারীদের থামাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ।ভিডিওটিতে দেখা গেছে, খুব কম বয়সের শিশুরাও এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডে উৎসাহ দিচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, ধর্মীয় কট্টরপন্থা ও ঘৃণার এই শিক্ষা শৈশবেই শিশুদের মনে বিষ ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এই ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। শিয়া সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং পাকিস্তানের সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন (HRCP) বারবার সতর্ক করেছে যে, ব্লাসফেমি আইনের নামে দেশটিতে অরাজকতা বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষ নিজেরাই নিজেদের হাতে আইন তুলে নিচ্ছে।

মুহূর্তের উত্তেজনায় বা সামান্য অজুহাতে একজন মানুষকে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং সভ্য সমাজের জন্য এক বড় কলঙ্ক। পাকিস্তানের এই “লিঞ্চ কালচার” এখন দেশটির স্থিতিশীলতা ও ভাবমূর্তির জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই মৃত ব্যক্তির পরিবার এখন বিচারের অপেক্ষায় থাকলেও, পাকিস্তানের বর্তমান বিচারব্যবস্থায় অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া নিয়ে সন্দিহান অনেক বিশেষজ্ঞ।

Follow on Google