Home Bangladesh ফের নজরে বাংলাদেশ! হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণ-গণধ*র্ষণে*র অভিযোগ গাইবান্ধায়

ফের নজরে বাংলাদেশ! হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণ-গণধ*র্ষণে*র অভিযোগ গাইবান্ধায়

gaibandha-minor-abduction-gang-rape-bangladesh-case

ঢাকা: বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে যখন বারংবার প্রশ্ন উঠছে। (minor abduction)এই আবহেই ফের গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক নাবালিকা স্কুলছাত্রীর ওপর ঘটে যাওয়া ভয়াবহ নৃশংসতা গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। স্কুলে যাওয়ার পথে এক ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে অপহরণ করে দিনভর গণধর্ষণের এই পৈশাচিক ঘটনাটি কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের এক চরম নিদর্শন।

গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬-এর সেই অভিশপ্ত সকালটি ওই কিশোরীর জীবনে যে অন্ধকার নামিয়ে এনেছে, তার ক্ষত হয়তো কোনোদিনও মুছে যাওয়ার নয়।ঘটনাটি ঘটে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালতলা এলাকায়। প্রতিদিনের মতোই তালতলা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ওই ছাত্রী। কিন্তু স্কুলের পৌঁছানোর আগেই ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সামসপাড়া বা তালতলা সংলগ্ন এলাকা থেকে ওত পেতে থাকা দুই যুবক তাকে ঘিরে ধরে।

   

আরও দেখুনঃ বুলডোজার নয়! যোগী রাজ্যে অবৈধ মসজিদ ভাঙল মুসলিমরাই

কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীহীন সেই নির্জন মুহূর্তটিই ছিল এক দীর্ঘ যন্ত্রণার শুরু। অপহরণকারীরা তাকে অজ্ঞাত কোনো স্থানে নিয়ে গিয়ে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে দেয়। অভিযোগ উঠেছে, জ্ঞান হারানোর পর ওই অবুঝ শিশুটির ওপর চলে দিনভর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন ও গণধর্ষণ।বিকেল গড়িয়ে যখন সন্ধ্যা নামছে, তখন অপরাধীরা অচৈতন্য অবস্থায় মেয়েটিকে রাস্তার পাশের ঝোপের মধ্যে ফেলে রেখে চম্পট দেয়।

স্থানীয় পথচারীরা তাকে ওই রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে আঁতকে ওঠেন। দ্রুত তার পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করে তাকে প্রথমে দ্রুত গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।

বর্তমানে সেখানেই যমে-মানুষে টানাটানির লড়াই চালাচ্ছে ওই নাবালিকা।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মেয়েটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চেতনানাশক ওষুধের প্রভাবে এবং দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক নির্যাতনে তার শরীর ভেঙে পড়েছে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই গোবিন্দগঞ্জ জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, যেখানে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন দিনের আলোয় মহাসড়কের পাশ থেকে একটি মেয়ে অপহৃত হচ্ছে অথচ প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই কেন?পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ ও সম্ভাব্য গোপন আস্তানাগুলোতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

তবে ঘটনার পর বেশ কয়েকদিন কেটে গেলেও মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার না হওয়া নিয়ে জনমনে ধোঁয়াশা ও ভীতি তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, যদি দ্রুত এই নরপশুদের আইনের আওতায় না আনা হয়, তবে সাধারণ ছাত্রীদের স্কুলে পাঠানো দায় হয়ে পড়বে।

Follow on Google