নয়াদিল্লি: ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জল এখন কোন দিকে গড়াবে? প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর দাবি তুলে ভারতের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। তবে এই স্পর্শকাতর ইস্যুতে কোনো রকম তাড়াহুড়ো করতে নারাজ মোদী সরকার। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের এই অনুরোধ বর্তমানে ভারতের নিজস্ব আইনি ও বিচার প্রক্রিয়ার অধীনে গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
দিল্লির কৌশলী অবস্থান
দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর শেখ হাসিনার বিষয়টি নিয়ে ভারতের এই সাম্প্রতিক অবস্থানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। এতদিন বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও, বর্তমানে ভারত একে ‘আইনি প্রক্রিয়ার অধীন’ বলে স্বীকার করে নিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ঢাকার নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতেই নয়াদিল্লি তার কৌশলে এই সামান্য পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে দুই দেশের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ঢাকা যখন এই দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করেছে, তখন তাকে পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া ভারতের পক্ষে কঠিন ছিল।
ঢাকার ক্রমাগত চাপ ও মৃত্যুদণ্ডের খাঁড়া Sheikh Hasina extradition
২০২৪ সালের অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যেই শেখ হাসিনা ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এই রায়ের ওপর ভিত্তি করেই বর্তমান বিএনপি সরকার তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাইছে। এমনকি সম্প্রতি বাংলাদেশের সংসদে সন্ত্রাসবাদ দমনে নতুন আইন পাস হয়েছে, যার নিশানায় কার্যত আওয়ামি লিগ।
চ্যালেঞ্জের মুখে নয়াদিল্লি
ভারতের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন ‘শাঁখের করাত’-এর মতো। একদিকে দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত মিত্র শেখ হাসিনার সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের দায়বদ্ধতা, অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশের নতুন সরকারের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা, দুই পাল্লা সমান রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
জটিল আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যর্পণের বিষয়টি এখন আর কেবল কূটনৈতিক স্তরে সীমাবদ্ধ নেই। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তির খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখার কথা বলে ভারত আসলে সময় নিতে চাইছে। ভারতের এই ‘আইনি পথে’ হাঁটার কৌশল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও জটিল আইনি লড়াইয়ের দিকে মোড় নিতে চলেছে।




















