
মুঘলসরাই: উত্তরপ্রদেশের মুঘলসরাইয়ে একটি অবৈধ মসজিদ উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি এক বিশেষ ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন এলাকাবাসী (illegal mosque)। প্রশাসনের বুলডোজার পৌঁছানোর পর কোনও প্রকার সংঘাত বা বাধার পথে না গিয়ে, স্থানীয় মুসলিম সমাজ নিজেরাই স্বউদ্যোগে মসজিদের অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করেছেন।
মুঘলসরাইয়ের একটি এলাকায় সরকারি জমি দখল করে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ তদন্তের পর সেটিকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করা হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী মসজিদ কমিটিকে আগেভাগেই উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ মসজিদ কমিটিকে অবৈধ কাঠামো সরিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও বরাদ্দ করেছিল। তবে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
আরও দেখুনঃ প্রকাশ্য রাস্তায় শ্লীলতাহানি! ১২ ঘন্টায় নওশাদকে এনকাউন্টার যোগী পুলিশের
গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬-এ যখন প্রশাসনের আধিকারিকরা পুলিশের বিশাল বাহিনী এবং বুলডোজার নিয়ে এলাকায় পৌঁছান, তখন পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এবং মসজিদ কমিটি এগিয়ে আসেন। তারা প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেন যে আইন এবং আদালতের নির্দেশকে সম্মান জানিয়ে তারা নিজেরাই এই কাঠামোটি ভেঙে ফেলবেন।
এরপর বুলডোজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই স্থানীয় মানুষজন হাতুড়ি এবং শাবল নিয়ে মসজিদের অবৈধ অংশগুলো ম্যানুয়ালি (হাতে) ভাঙার কাজ শুরু করেন। উত্তরপ্রদেশের সাম্প্রতিক ‘বুলডোজার অ্যাকশন’-এর ধারায় এই ঘটনাটি একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে শক্তির বদলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান এসেছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে মুঘলসরাইয়ের এই ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে, আইনের শাসন ও জনসমাজের সহযোগিতা থাকলে যেকোনো সংবেদনশীল পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব। স্থানীয়দের এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন আইনশৃঙ্খলার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে, অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর সুযোগও বন্ধ করে দিয়েছে।










