সিকিম: উত্তর সিকিমের লাচেনে (Lachung) চলতি সপ্তাহে ভারী তুষারপাত এবং ধসের কারণে প্রায় এক হাজার পর্যটক আটকে পড়েছেন৷ চুংথাং থেকে লাচেনগামী প্রধান সড়কে তারুম চু সেতুর কাছে ধস নেমে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পর্যটকরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অপেক্ষা করছেন৷ এই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভারতীয় সেনা এবং বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন যৌথভাবে ‘অপারেশন হিম সেতু’ নামে বিশেষ উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে৷
সেনা ও বিআরও-এর জওয়ানরা বরফ সরিয়ে বিকল্প পথ তৈরি করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে অস্থায়ী ফুটব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন৷ তুষারাবৃত পিচ্ছিল রাস্তায় সাধারণ মানুষের গাড়ি টানতে সেনার শক্তিশালী যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে৷
সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই ১৩৫ জন পর্যটককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে৷ উদ্ধার করা হয়েছে ৩২টি হালকা যানবাহন এবং ১০টি মোটরসাইকেল৷ সেনা পর্যটকদের জন্য খাবার, জল এবং জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে৷
লাচেনে আটকে পড়া পর্যটকরা জানিয়েছেন, তারা তুষারপাত ও ধসের কারণে আতঙ্কিত হলেও সেনা ও বিআরও-এর যৌথ উদ্যোগে ধীরে ধীরে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন৷ ধাপে ধাপে পর্যটকদের নিচে নামানো হচ্ছে৷ উত্তর সিকিমের তাড়ামচু এলাকায় সম্প্রতি নির্মিত একটি নতুন সেতু গত ফেব্রুয়ারিতে উদ্বোধন করা হয়েছিল৷ এই সেতুর মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটক এবং স্থানীয়দের যাতায়াত সহজ হয়েছিল৷ কিন্তু মাত্র এক মাসের মধ্যেই সেতুর একটি অংশ ধসের কবলে পড়ে৷ ফলে লাচেনের সঙ্গে বাইরের যোগাযোগ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়৷
সেনা ও প্রশাসন পর্যটকদের নিরাপদে নিচে নামানোর জন্য ধাপে ধাপে কাজ চালাচ্ছে৷ তারা পর্যটকদের খাদ্য, ওষুধ এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করছে৷ স্থানীয় প্রশাসনও নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে৷ সিকিম পর্যটন দফতরও পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে৷ পর্যটকরা ধীরে ধীরে নিরাপদ স্থানে পৌঁছাচ্ছেন, তবে আবহাওয়া এখনও প্রতিকূল৷ সেনা ও বিআরও যৌথভাবে পর্যটকদের নিরাপদে নামানোর কাজ অব্যাহত রাখছে৷




















