শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি, দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ওলা, উবর ও র্যাপিডো (App Cab Service) চালকদের বিভিন্ন সংগঠন। এই ধর্মঘটের প্রভাব শহর ও শহরতলির দৈনন্দিন যাতায়াতে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে অফিসযাত্রী, শিক্ষার্থী এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষজন এই ধর্মঘটে ভোগান্তির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চালক (App Cab Service) সংগঠনগুলির অভিযোগ, মোটর ভেহিকেল অ্যাগ্রিগেটর গাইডলাইন্স ২০২৫ জারি হওয়ার পরেও অ্যাপ-ভিত্তিক ক্যাব (App Cab Service) সংস্থাগুলি সেই নির্দেশিকা সঠিকভাবে কার্যকর করছে না। নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ, কমিশনের হার এবং চালকদের ন্যূনতম আয়ের বিষয়টি স্পষ্ট থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে সেই স্বচ্ছতা নেই বলেই দাবি চালকদের। তাঁদের বক্তব্য, যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া ভাড়ার একটি বড় অংশ কমিশন হিসেবে কেটে নেওয়া হচ্ছে, যার ফলে চালকদের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ থাকছে না।
চালকদের (App Cab Service) আরও অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে অ্যাপ সংস্থাগুলি ভাড়া কাঠামো একতরফাভাবে পরিবর্তন করছে। পিক আওয়ার বা অতিরিক্ত চাহিদার সময় যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নেওয়া হলেও, সেই অতিরিক্ত আয়ের ন্যায্য অংশ চালকদের দেওয়া হয় না। পাশাপাশি জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং বিমার খরচ বেড়ে যাওয়ায় চালকদের আর্থিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
চালক সংগঠনগুলির দাবি, মোটর ভেহিকেল অ্যাগ্রিগেটর গাইডলাইন্সে যে ন্যূনতম ভাড়া ও কমিশন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ অ্যালগরিদম ব্যবহার, চালকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া নিয়ম পরিবর্তন না করা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির একটি কার্যকর ব্যবস্থারও দাবি জানানো হয়েছে।
এই ধর্মঘটের ফলে শনিবার বহু শহরে অ্যাপ-ক্যাব পরিষেবা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ থাকতে পারে। বিশেষ করে বড় শহরগুলিতে, যেখানে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ অফিস যাওয়া, বিমানবন্দর যাতায়াত বা জরুরি প্রয়োজনে ওলা, উবর ও র্যাপিডোর উপর নির্ভর করেন, সেখানে সমস্যার আশঙ্কা বেশি। অনেক যাত্রী ইতিমধ্যেই বিকল্প পরিবহণ ব্যবস্থা খোঁজার কথা ভাবছেন।



















