ব্যক্তিগত সম্পত্তি হওয়ার পথে রবীন্দ্রনাথ ও ‘গীতাঞ্জলি’ সমৃদ্ধ লন্ডন হাউস

156
Tagore's london house

বিশেষ প্রতিবেদন: বিক্রি হতে চলেছে লন্ডনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ি। এই বাড়িতে বসেই শুরু হয়েছিল তাঁর নোবেল পাওয়ার যাত্রা। সেই বাড়িই এবার যেতে চলেছে ব্যক্তিগত হাতে।

১৯১২ সালে ইংল্যান্ড গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।থেকেছিলেন হ্যাম্পস্টেড হেলথের ৩ নম্বর ভিলায়। ওই বাড়ির অবস্থান উত্তর লন্ডনে। সেখানে বেশ কয়েক মাস কাটিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ওই বাড়ির খুব কাছেই থাকতেন ব্রিটিশ শিল্পী এবং লেখক স্যার উইলিয়াম রটেনস্টাইন। তিনি ওই ভিলায় প্রায়ই কবির সঙ্গে গল্প করতে আসতেন। আড্ডাতেই উঠে এসেছিল ‘গীতাঞ্জলি’-র কথা।

কবিতা শুনে মুগ্ধ হয়ে যান রটেনস্টাইন। এরপর ওই বাড়িতেই গীতাঞ্জলীর ১০৩ টি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ করে তা পাঠানো হয়েছিল নোবেল কমিটির কাছে। ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পান। এরপর ১৯৩১ সাল পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ বেশ কয়েকবার কাটিয়েছেন তাঁর প্রিয় লন্ডন হাউসে। সেই হিসেবে এই বাড়িটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বাড়িই যেতে চলেছে ব্যক্তিগত হাতে। 

জানা গিয়েছে, গোল্ডস্মিথ অ্যান্ড হাওল্যান্ডের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়ে গিয়েছে ঐতিহাসিক বাড়ি বিক্রির কাজ। বাড়ির মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২৭ লক্ষ পাউন্ড, ভারতীয় মুদ্রায়, ২৭.৩ কোটি টাকা। ঘটনা হল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ২০১৫ সালে এই বাড়িটি রাজ্য সরকারের হয়ে কিনতে চেয়েছিলেন। সেই বাড়িটিকে রবীন্দ্র স্মারক সংগ্রহশালায় রূপান্তরিত করতে চান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ওই সফরেই ব্রিটেনে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করে এই ইচ্ছা প্রকাশ করেন। অনুমতি দেয়নি ইংরেজ সরকার, কারণ সেটি হেরিটেজ।

Tagore's london house

ব্রিটিশরা হেরিটেজেকে কদর করে। তার প্রমাণ রেখেছিল তারা। ফলক বসিয়ে ইতিহাসের ধরে রাখা হয়েছিল। ওই হেরিটেজ ট্রাস্টের রক্ষণাবেক্ষণের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। তা তারা আর আর বাড়ায়ওনি। ফলত রবি বাড়ি
এগিয়ে গিয়েছে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হওয়ার পথে।

এমনটা হলে ঐতিহাসিক যে সব নিদর্শন ছিল ওই বাড়িতে তা যে কখনোই অক্ষুণ্ণ থাকবে না তা বলাই যায়। রবীন্দ্রপ্রেমীর আশা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা বলছেন, তিনি যদি আবারও চান বাঁচাতে পারেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত মহামূল্যবান বাড়িটি।