ইম্ফল: দীর্ঘদিন ধরে চলা অশান্তির পর মণিপুরে (Manipur)ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতা ফিরছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ২০২৩ সালের মে মাসে শুরু হওয়া জাতিগত সংঘর্ষের সময় লুট হয়ে যাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে। একই সঙ্গে রাজ্য সরকার দীর্ঘদিনের জনগণের দাবি জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) বাস্তবায়ন সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
২০২৩ সালের সেই ভয়াবহ সংঘর্ষের ক্ষত এখনও মণিপুরের বুকে তাজা। কুকি-মেইতেই সংঘাতে ২৬০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। আহত হয়েছিলেন ১,৫০০-র বেশি। ঘরছাড়া হয়েছিলেন ৬০,০০০-এরও অধিক মানুষ। গ্রামের পর গ্রাম জ্বলে গিয়েছিল, চার্চ ও মন্দির ধ্বংস হয়েছিল, আর লুট হয়ে গিয়েছিল বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র। সেই অস্ত্র এখনও অনেকের হাতে থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। কিন্তু সরকারি তথ্য অনুসারে, অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে ৭০ শতাংশ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃএবার মিলবে কি দুর্গা পুজোর অনুদান? বড়সড় ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
বাকি অংশ উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করতে কোবরা ব্যাটেলিয়নের সংখ্যা দুই থেকে বাড়িয়ে তিন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই অত্যাধুনিক কমান্ডো বাহিনী সীমান্ত এলাকা ও অশান্ত অঞ্চলে বিশেষ দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে। নতুন ব্যাটেলিয়ন মোতায়েন হলে বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি এলাকায় নজরদারি বাড়বে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন জেলায় শান্তি কমিটি গঠন, উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন এবং অর্থনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। বাজারে মানুষ ফিরছে, স্কুল-কলেজ চালু হচ্ছে এবং যান চলাচলও অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে।তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে এনআরসি বাস্তবায়নের দাবি।
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষ এই দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অভিবাসন, ভূমি ও পরিচয়ের সংকটকে কেন্দ্র করে যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল, তার মূল কারণ হিসেবে অনেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকেই চিহ্নিত করেন। রাজ্য সরকার এখন এই দাবি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। এনআরসি চালু হলে যারা প্রকৃত মণিপুরবাসী, তাদের অধিকার সুরক্ষিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



