Home Politics গণনার আগেই নোয়াপাড়ায় বিজেপি নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি

গণনার আগেই নোয়াপাড়ায় বিজেপি নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি

noapara-bjp-leader-house-firing-before-counting-election-tension

কলকাতা: উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট পর্ব শেষ হলেও উত্তেজনার পারদ নামছে না। (Noapara)এবার গুরুতর অভিযোগ উঠল বিজেপির এক নেতার বাড়িতে গভীর রাতে সশস্ত্র হামলার চেষ্টা নিয়ে। নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে দাবি করেছেন শনিবার গভীর রাতে, প্রায় ১২টা ৫ মিনিট নাগাদ, দুই দুষ্কৃতী মোটরবাইকে করে ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সম্পাদক কুন্দন সিংহের বাড়িতে পৌঁছায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট প্রাণনাশের চেষ্টা।

- Advertisement -

অর্জুনের দাবি দুই অভিযুক্ত ব্যক্তি আকাশ চৌধুরী ওরফে গোলু এবং আমন চৌধুরী এলাকার পরিচিত দাগী অপরাধী। তারা গারুলিয়ার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। অভিযোগ আরও গুরুতর, এই দুই ব্যক্তির নাম নাকি আগেই নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া অপরাধীদের তালিকায় ছিল।

   

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, দুষ্কৃতীরা বাড়ির সামনে এসে প্রথমে একটি গুলি চালায়, যার শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আমন চৌধুরী নাকি বাড়ির ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে। সেই সময় কুন্দন সিংহ কোনওভাবে নিজেকে বাঁচাতে সক্ষম হন এবং অক্ষত অবস্থায় পালিয়ে যান। ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ভোট গণনার আগে এই ধরনের হামলার অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

আরও দেখুনঃএগরায় স্ট্রং রুমের সামনে সংঘর্ষময় পরিস্থিতি, রাজনৈতিক উত্তেজনায় উত্তপ্ত এলাকা

বিজেপির পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে যে এই হামলার পেছনে তৃণমূল কংগ্রেসের মদত রয়েছে। যদিও এই অভিযোগ এখনও প্রমাণিত নয়, তবুও বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ভোটের আগে এবং পরে বিরোধী কর্মী ও নেতাদের ভয় দেখানোর জন্য এই ধরনের হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ভোটের দিন আকাশ চৌধুরীকে নোয়াপাড়া থানার পুলিশ আটক করেছিল। তবে অভিযোগ, সন্ধ্যার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিজেপির প্রশ্ন, যদি ওই ব্যক্তি দাগী অপরাধী হন, তাহলে কেন তাকে মুক্তি দেওয়া হল? এই নিয়েই পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দলটি।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ভোট গণনার আগে এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মীদের ভয় দেখিয়ে সংগঠন দুর্বল করার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে বিজেপি।

তাদের দাবি, অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে এবং এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, যাতে ভোট গণনা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর দাবিও উঠেছে। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, এলাকায় রাজনৈতিক অশান্তি নতুন কিছু নয়, তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় আতঙ্ক অনেকটাই বেড়েছে। রাতের অন্ধকারে গুলির শব্দ শুনে বহু মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন, যদিও পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং তা দ্রুত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

Follow on Google