
কলকাতা: অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়কে (Swastika Mukherjee)শনিবার গড়িয়াহাট থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করল কলকাতা পুলিশ। অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের বিতর্কিত ‘রগড়ানি’ মন্তব্যকে সমর্থন করে করা একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে ঘিরেই এই জিজ্ঞাসাবাদ। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পুলিশ অভিনেত্রীর বয়ান রেকর্ড করে এবং ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার প্রেক্ষাপটে তাঁর মন্তব্যের বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন করে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়। সেই সময় বিজেপির তৎকালীন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ শিল্পীদের উদ্দেশে মন্তব্য করেছিলেন, “আপনাদের যাত্রা শুরুই হয় রগড়ানি দিয়ে। আপনাদের অনেক রগড়ানি খেতে হবে।” এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে লেখেন, “আজ বিশ্ব রগড়ানি দিবস ঘোষিত হোক।” সেই পোস্টের নীচে স্বস্তিকা মন্তব্য করেছিলেন, “হা-হা-হা, হোক হোক হোক।”
আরও দেখুনঃ আটকে ২-৩ পাক জঙ্গি! রাজৌরিতে চলছে ‘অপারেশন শেরুয়ালি’
২০২৬ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই পুরনো পোস্ট নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে আসে। অভিযোগকারী আইনজীবী জয়দীপ সেন দাবি করেন, ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার আবহে ওই পোস্ট এবং তার সমর্থনমূলক মন্তব্য হিংসাকে উস্কে দিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, সেই সময় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা, খুন এবং নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল। এই পরিস্থিতিতে পরমব্রত ও স্বস্তিকার মন্তব্য সামাজিক উত্তেজনা বাড়িয়েছিল বলেই দাবি করা হয়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে পরমব্রত ও স্বস্তিকার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১০৯ এবং ১৫৩ ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, জামিন অযোগ্য ধারাতেই মামলা রুজু হয়েছে। এরপর স্বস্তিকাকে নোটিস পাঠানো হয় এবং শনিবার দুপুরে তিনি গড়িয়াহাট থানায় হাজিরা দেন।
তদন্তকারী অফিসাররা তাঁকে জানতে চান, কোন পরিস্থিতিতে তিনি ওই পোস্টকে সমর্থন করেছিলেন এবং ভোট পরবর্তী অশান্তির ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন কি না। পুলিশ তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করেছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও জিজ্ঞাসাবাদের পর থানার বাইরে বেরিয়ে স্বস্তিকা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। অন্যদিকে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এখনও পর্যন্ত পুলিশের সামনে হাজিরা দেননি। তিনি আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন বলে সূত্রের খবর। খুব শীঘ্রই তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে বলে অনুমান রাজনৈতিক মহলের।
এই মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও তীব্র হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এদিন বলেন, “২০২১ সালের নির্বাচনের পর বহু লোক হিরো হয়ে গিয়েছিল। আমাদের লোকেরা যখন মার খাচ্ছিল, বাড়ি ভাঙা হচ্ছিল, তখন এরা সমবেদনা না জানিয়ে উল্টে আক্রমণকারীদের উৎসাহ দিয়েছে।” তাঁর দাবি, যারা হিংসাকে সমর্থন করেছে, তাদেরও আইনের মুখোমুখি হতে হবে। অভিযোগকারী আইনজীবী জয়দীপ সেন আরও দাবি করেন, “পরমব্রতর পোস্টটি স্পষ্টভাবে বৃহত্তর হিংসায় উস্কানি দিয়েছিল। প্রয়োজনে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।”













