Saturday, May 23, 2026
Home Bharat আটকে ২-৩ পাক জঙ্গি! রাজৌরিতে চলছে ‘অপারেশন শেরুয়ালি’

আটকে ২-৩ পাক জঙ্গি! রাজৌরিতে চলছে ‘অপারেশন শেরুয়ালি’

operation-sheruwali-rajouri-terror-encounter

জম্মু: জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার গম্ভীর মুগলান এলাকায় ফের জঙ্গি দমন অভিযানে নেমেছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী (Operation Sheruwali)। শনিবার , ২৩ মে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুরু হওয়া এই অভিযানের কোডনাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন শেরুয়ালি’। সেনা, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফের যৌথ অভিযানে পাহাড়ি বনাঞ্চল ঘিরে ফেলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, এলাকায় ২ থেকে ৩ জন জঙ্গি আত্মগোপন করে রয়েছে এবং তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র গুলি বিনিময় চলছে।

- Advertisement -

সেনা সূত্রে খবর, গোয়েন্দাদের কাছ থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার পরই গম্ভীর মুগলান এলাকার বিস্তীর্ণ অংশে কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন শুরু হয়। অভিযানের শুরুতেই জঙ্গিরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। এরপরই পাল্টা জবাব দেয় বাহিনী। বর্তমানে পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে যাতে কোনও জঙ্গি পালাতে না পারে।

   

আরও দেখুনঃ বকরি ইদের ছুটি কমল! ২ দিনের বদলে মাত্র ১ দিন ছুটি ঘোষণা নবান্নের

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সংঘর্ষের শব্দে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাহাড়ি জঙ্গল ঘেরা অঞ্চল হওয়ায় অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চালানো হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী ড্রোন, আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত ফোর্স ব্যবহার করছে বলে জানা গিয়েছে।

এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হচ্ছে যে, সংঘর্ষে এক পাকিস্তানি জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে এই খবর এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ভারতীয় সেনা, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ কিংবা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কোনও মুখপাত্র এখনও কোনও জঙ্গি নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেননি। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, অভিযান এখনও চলছে এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত তথ্য জানানো সম্ভব নয়।

তদন্তকারীদের অনুমান, এলাকায় আত্মগোপন করে থাকা জঙ্গিরা লস্কর-ই-তইবা অথবা অন্য কোনও জঙ্গি সংগঠনের সদস্য হতে পারে। যদিও তাদের পরিচয় বা সংগঠন সম্পর্কে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানানো হয়নি। নিরাপত্তা বাহিনী গোটা এলাকা চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে।

রাজৌরি এবং পুঞ্চ অঞ্চলে গত কয়েক বছরে একাধিক জঙ্গি কার্যকলাপের ঘটনা সামনে এসেছে। সীমান্ত ঘেঁষা দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় জঙ্গিরা প্রায়ই এই এলাকাকে লুকিয়ে থাকার জন্য ব্যবহার করে বলে অভিযোগ। সেই কারণে ভারতীয় সেনা এবং আধাসামরিক বাহিনী নিয়মিতভাবে এই অঞ্চলে নজরদারি এবং অভিযান চালিয়ে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘অপারেশন শেরুয়ালি’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগে থেকেই পরিকল্পনা করে এই অভিযান শুরু করা হয়েছে। জঙ্গিদের পালানোর রাস্তা বন্ধ করতে কৌশলগতভাবে বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একইসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে গোটা দেশের নজর রাজৌরির এই অভিযানের দিকে। জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষ কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী কী সাফল্য পায়, সেটাই এখন দেখার। তবে সেনা ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে গুজব বা অসমর্থিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বিশ্বাস না করার আবেদন জানানো হয়েছে। সরকারিভাবে নিশ্চিত তথ্যের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর বিবৃতির অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Follow on Google