
লখনউ: উত্তরপ্রদেশে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েই চলেছে। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অশালীন (Ajay Rai)গালিগালাজ করার অভিযোগে রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাইয়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে এই ঘটনা কংগ্রেস-বিজেপির মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, অজয় রাইয়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে সাম্প্রতিক এক জনসভায়। অজয় রাই প্রধানমন্ত্রী মোদীকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষায় কথা বলেন বলে অভিযোগ। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। বিজেপি কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। লখনউয়ের একটি থানায় এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনে অজয় রাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে।
আরও দেখুনঃ বকরি ইদের ছুটি কমল! ২ দিনের বদলে মাত্র ১ দিন ছুটি ঘোষণা নবান্নের
অজয় রাই অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমি কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ করিনি। আমি সরকারের নীতির সমালোচনা করেছি। বিজেপি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালাচ্ছে।” কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটা সরকারের দমনমূলক কৌশল। কংগ্রেস নেতারা বলছেন, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতেই এই ধরনের মামলা করা হচ্ছে।বিজেপি নেতারা অবশ্য এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী সুরেশ খান্না বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রীকে যিনি গালি দেন, তিনি দেশের মানুষকেই অপমান করেন।
আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।” বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, “কংগ্রেস এখন হতাশায় ভুগছে। তাই তারা অশালীন রাজনীতিতে নেমেছে।”এই ঘটনা উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। যোগী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার সংখ্যা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। কংগ্রেস নেতারা দাবি করছেন, গণতন্ত্রের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপি বলছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।স্থানীয় মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
লখনউয়ের এক চা দোকানদার বলেন, “নেতারা যদি এভাবে গালাগালি করেন, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ কী হবে? সমালোচনা করুন, কিন্তু শালীনতা বজায় রাখুন।” অন্য এক যুবক বলেন, “বিরোধীদের কথা বলার অধিকার আছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে অপমান করা উচিত নয়।”রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা আসন্ন নির্বাচনী প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল। অজয় রাইকে নিয়ে এই মামলা দলের ভিতরে-বাইরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এটা কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকেও প্রকাশ করছে।







