
কলকাতা: সন্দেশখালির প্রাক্তন তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের আইনি জটিলতা আরও গভীর হল। (Sheikh Shahjahan)২০২৬ সালের মে মাসে পুলিশ তাঁকে নতুন দুটি মামলায় গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল, মারধর এবং ভয় দেখানোর একাধিক অভিযোগে ঘিরে থাকা এই প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে এবার পুরনো মামলাগুলিকেই নতুন করে সক্রিয় করে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। এর ফলে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে সন্দেশখালি থানায় দায়ের হওয়া একাধিক পুরনো অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের জমি জোর করে দখল, হুমকি দেওয়া এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর মতো গুরুতর অপরাধ। এই মামলাগুলিকে জামিন অযোগ্য ধারায় রুজু করা হয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। গ্রেফতারের পর তাঁকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। আদালত তাঁকে পুনরায় জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে, যা আগামী ৪ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানা গিয়েছে।
আরও দেখুনঃ যোগী রাজ্যে বাতিল ৩১০০০ ওয়াকফ সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশন
শুধু পুরনো মামলা নয়, নতুন করে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি ইডি আধিকারিকদের ওপর হামলার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত একটি মামলায় নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই ঘটনার অন্যতম সাক্ষী ভোলানাথ ঘোষের ছেলে সত্যজিৎ ঘোষের রহস্যজনক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘিরে তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। তদন্তকারীদের একাংশ মনে করছেন, এটি স্বাভাবিক দুর্ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। এই মামলার প্রেক্ষিতে ন্যাজাট থানার পুলিশ শেখ শাহজাহানকে হেফাজতে নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
রাজনৈতিক মহলে এই গ্রেফতারিকে ঘিরে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর এলাকা থেকে শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেত্রী সন্দেশখালি-১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী সবিতা রায় এবং কর্মাধ্যক্ষ মিঠু সর্দারকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, ইডি অভিযানের দিন এলাকায় ভিড় জড়ো করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছিলেন তাঁরা। এই ধারাবাহিক গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে।
বিজেপি এই ঘটনায় শাসক দলকে তীব্র আক্রমণ করেছে। বিরোধীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাঁদের এতদিন রাজনৈতিক সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছিল। বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একসময় যেসব প্রভাবশালী নেতাদের “অদম্য দাপট” ছিল, এখন তা ভেঙে পড়ছে। একইসঙ্গে বিধানসভায় শেখ শাহজাহানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করা হয়েছে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে প্রশাসনিক মহল সূত্রে জানা যাচ্ছে, তদন্ত সম্পূর্ণভাবে আইন অনুযায়ী চলছে এবং আদালতের নির্দেশ মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর সন্দেশখালি এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মানুষজনের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক প্রভাব ও অভিযোগের তদন্ত এবার এক নতুন মোড়ে পৌঁছেছে। এখন নজর আদালতের পরবর্তী শুনানি এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকে।













