
লখনউ, ২৩ মে: উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের আমলে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে বড়সড় অভিযান শুরু হয়েছে (Waqf properties)। রাজ্য প্রশাসন ৩১,০০০ ওয়াকফ সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে। সম্পত্তির দলিলপত্রে ব্যাপক গড়মিল ও অনিয়ম ধরা পড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ রাজ্যজুড়ে তীব্র আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।উত্তরপ্রদেশ ওয়াকফ বোর্ড ও রাজস্ব বিভাগের যৌথ তদন্তে দেখা গেছে, অনেক সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে জাল দলিল, ভুল তথ্য এবং অবৈধ দখলের প্রমাণ মিলেছে।
কোনও কোনও ক্ষেত্রে সরকারি জমি বা ব্যক্তিগত জমিকেও ওয়াকফ সম্পত্তি বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “এটা কোনো ধর্মীয় সম্পত্তির বিরুদ্ধে অভিযান নয়। এটা শুধু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়া। যেসব সম্পত্তিতে স্পষ্ট অনিয়ম পাওয়া গেছে, সেগুলোর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে।”এই ৩১,০০০ সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে জমি, বাড়ি, দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা।
আরও দেখুনঃ আসানসোলে বুলডোজারে গুঁড়িয়ে গেল ইস্পাত কারখানার জমি দখলকারী তৃণমূল কার্যালয়
অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ওয়াকফ হিসেবে নথিভুক্ত জমি আসলে বহু বছর ধরে বেসরকারি ব্যক্তি বা সংগঠনের দখলে ছিল। কিছু জমিতে অবৈধ নির্মাণও হয়েছে। যোগী সরকারের এই অভিযানকে অনেকে ‘স্বচ্ছতা অভিযান’ বলে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিজেপি নেতারা বলছেন, এতদিন ওয়াকফ আইনের অপব্যবহার করে বিপুল সম্পত্তি দখল করা হয়েছিল। এখন সেই অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।অন্যদিকে সামাজিক সংগঠন ও বিরোধী দলগুলো এই সিদ্ধান্তকে ‘সম্প্রদায়-বিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
ওয়াকফ বোর্ডের কয়েকজন সদস্যও বলেছেন, তাঁরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করবেন।স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। লখনউ ও আগ্রার কয়েকটি এলাকায় যেখানে ওয়াকফ জমিতে মাদ্রাসা, কবরস্থান ও মসজিদ রয়েছে, সেখানে মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, বাতিল করা সম্পত্তিগুলোর পুনরায় যাচাই-বাছাই চলবে। যেগুলোতে সঠিক প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেগুলো আবার রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পাবে। কিন্তু জালিয়াতির প্রমাণ পেলে সেই সম্পত্তি সরকারি খাতায় ফিরিয়ে আনা হবে। এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে জিআইএস ম্যাপিং ও ডিজিটাল সার্ভের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।







