
পূর্ব মেদিনীপুর: পূর্ব মেদিনীপুর (Purba Medinipur) জেলার এগরা ঝাটুলাল হাইস্কুলের স্ট্রং রুম ঘিরে বুধবার সকালেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকাল আনুমানিক ১১টা নাগাদ ওই স্ট্রং রুমের সামনে হঠাৎই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যা দ্রুতই ধুন্ধুমার কাণ্ডে পরিণত হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ, পুলিশি(Purba Medinipur) পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন পটাশপুরের তৃণমূল প্রার্থী পীযুষকান্তি পন্ডা সহ দলের বহু কর্মী ও সমর্থক। তাঁদের দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। (Purba Medinipur) বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁদের দাবি, এগরা থানার আইসি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় নিয়ম ভেঙে পটাশপুরের বিজেপি প্রার্থী তপন মাইতিকে স্ট্রং রুমের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ করে দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়। পীযুষকান্তি পন্ডা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের এই ধরনের আচরণ নির্বাচনী নিরপেক্ষতার প্রশ্নে বড় ধরনের সন্দেহ তৈরি করছে।
বুথফেরত সমীক্ষায় আস্থা নেই! ৪ মে-র আগে উচ্ছ্বাস চেপে ‘ধীরে চলো’ নীতি বিজেপির
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। (Purba Medinipur) কয়েকশো তৃণমূল কর্মী-সমর্থক এগরা থানার আইসিকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তারা আইসির অপসারণের দাবি তুলে জোরদার স্লোগান দেন। মুহূর্তের মধ্যেই স্ট্রং রুম চত্বর কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এলাকায় তৈরি হয় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্কের পরিবেশ। পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এগরার মহকুমা শাসক মঞ্জিত যাদব। তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্ত থাকার আবেদন জানানো হলেও ততক্ষণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে অভিযোগ।
শুকনো হাওয়ার দাপটে রেকর্ড ভাঙবে গরম! ৫ দিন ‘হট অ্যান্ড হিউমিড’ অ্যালার্ট দক্ষিণবঙ্গে
এরপরই পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে বলে জানা গেছে। হঠাৎ এই কঠোর পদক্ষেপে আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। যদিও কেন্দ্রীয় বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় বলে প্রশাসনের দাবি।
ঘটনার পর থেকেই গোটা স্ট্রং রুম এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের অশান্তি না ঘটে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।













