
ফলতা: ফলতায় পুনর্নির্বাচন ঘিরে ভারী নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। (Falta repoll)স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে হুমকি ও মারধরের ঘটনায় গতকাল এলাকায় বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তাঁরা। এই উত্তেজনার মধ্যেই নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া (ইসি) ১৪৪-ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের সব ২৮৫টি ভোটকেন্দ্রে (সহায়ক কেন্দ্রসহ) পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে।
আগামী ২১ মে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে এবং ২৪ মে ভোট গণনা হবে।ফলতা এলাকায় এখন থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। গতকাল সকাল থেকেই স্থানীয়রা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। অনেকে অভিযোগ করেন, ভোটের দিন তৃণমূল নেতা ও তাঁদের অনুগামীরা ভোটারদের হুমকি দিয়েছেন, কয়েকজনকে মারধরও করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলতাবাসী অভিযোগ করেছেন যেখানে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল সেখানেই পুনর্নির্বাচন হচ্ছে। আবার অনেকেই বলেছেন উত্তরপ্রদশ থেকে সিংহম অফিসার নিয়ে এসে কোনও লাভ হয়নি শেষমেশ ভরসা সেই কেন্দ্রীয় বাহিনী।
আরও দেখুনঃ গণনার আগেই নোয়াপাড়ায় বিজেপি নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পুরো ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে নতুন করে ভোট হবে। ২৮৫টি ভোটকেন্দ্রের প্রত্যেকটিতে পুনর্নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ইতিমধ্যেই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর টহল চলছে। স্থানীয় বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা বড়ো আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছে।
তাঁরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রমাণ। তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলের এক নেতা বলেন, “বিরোধীরা ষড়যন্ত্র করছে। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। নির্বাচন কমিশন যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা তাতে সহযোগিতা করব।”ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে কৃষি, ছোট শিল্প ও মৎস্যচাষের ওপর অনেক পরিবার নির্ভরশীল। ভোটাররা জানিয়েছেন, এবার তাঁরা মূল ইস্যু নিয়ে ভোট দিতে চান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, রাস্তাঘাট ও স্বাস্থ্যসেবা। কিন্তু হিংসা ও হুমকির কারণে সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।













