সুইগির সেরার তালিকায় নেই কোনও বাঙালি খাবার!

ভারতের অনলাইন ফুড ডেলিভারি দুনিয়ায় ২০২৫ সালেও নিজের আধিপত্য ধরে রাখল বিরিয়ানি (No Bengali food in Swiggy top dishes list)। সদ্য প্রকাশিত সুইগির বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গোটা দেশে ...

By Sandipa Sil

Published:

Follow Us
no-bengali-food-swiggy-top-dishes-2025

ভারতের অনলাইন ফুড ডেলিভারি দুনিয়ায় ২০২৫ সালেও নিজের আধিপত্য ধরে রাখল বিরিয়ানি (No Bengali food in Swiggy top dishes list)। সদ্য প্রকাশিত সুইগির বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গোটা দেশে সবচেয়ে বেশি অর্ডার হওয়া খাবারের শীর্ষে ফের একবার বিরিয়ানি। তবে এই তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই বাঙালি খাদ্যপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ কারণ দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যসংস্কৃতি থাকা সত্ত্বেও সুইগির ‘সেরা খাবার’-এর তালিকায় জায়গা পেল না কোনও বাঙালি পদ।

রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ সালে সুইগিতে মোট বিরিয়ানি অর্ডার হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ৩০ লক্ষ বার। এর মধ্যে শুধুমাত্র চিকেন বিরিয়ানির অর্ডারই ৫ কোটি ৭৭ লক্ষ। গড় হিসেবে হিসেব করলে, প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩.২৫ প্লেট বিরিয়ানি অর্ডার হয়েছে—যা গত এক দশক ধরে এই খাবারের জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতাকেই তুলে ধরে। শুধু বিরিয়ানি নয়, তালিকায় রয়েছে ভেজ ডোসা (২ কোটি ৬২ লক্ষ), ইডলি (১ কোটি ১০ লক্ষ), বার্গার (৪ কোটি ৪২ লক্ষ) এবং পিজ্জা (৪ কোটি ১ লক্ষ)–এর মতো খাবার।

   

গোপীগঞ্জের অন্য আবদুলের কীর্তি জানলে অবাক হবেন

এই তালিকা প্রকাশের দিনই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়ে যায় আলোচনা। অনেকেই মজার ছলে বিরিয়ানিকে ‘জাতীয় খাবার’ ঘোষণার দাবি তুলেছেন। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে এত বিপুল খাদ্যবৈচিত্র্যের দেশ হওয়া সত্ত্বেও কিছু নির্দিষ্ট খাবারই বারবার শীর্ষে থাকছে। বিশেষ করে পূর্ব ভারতের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে উঠেছে জোরালো প্রশ্ন।

সবচেয়ে বড় আক্ষেপ বাঙালিদের। মাছ-ভাত, ইলিশ, চিংড়ি, কষা মাংস, লুচি-আলুরদম, চপ-কাটলেট কিংবা মিষ্টির ক্ষেত্রে রসগোল্লা-সন্দেশ—এত সমৃদ্ধ রান্নার ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও সুইগির শীর্ষ তালিকায় কোনও বাঙালি খাবার নেই। খাদ্যরসিকদের একাংশের মতে, এর পিছনে রয়েছে একাধিক কারণ।

প্রথমত, বাঙালি খাবারের বড় অংশ এখনও বাড়ির রান্না বা ছোট স্থানীয় হোটেল-কেন্দ্রিক। সেগুলির অনেকটাই অনলাইন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত নয়। দ্বিতীয়ত, বিরিয়ানি, বার্গার বা পিজ্জার মতো খাবার ‘অল-ডে মিল’ হিসেবে জনপ্রিয় হলেও বাঙালি খাবার অনেক সময় নির্দিষ্ট সময় বা প্রেক্ষাপটের সঙ্গে জড়িত।

খাদ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, শহুরে ভারতের খাবারের পছন্দ দ্রুত বদলাচ্ছে। অফিসপাড়ার ব্যস্ত জীবন, নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি, রাত জাগা কাজ সব মিলিয়ে এমন খাবারের চাহিদা বাড়ছে যা দ্রুত পাওয়া যায় এবং পেট ভরায়। সেই জায়গায় বিরিয়ানি একেবারে নিখুঁত প্যাকেজ। অন্যদিকে, বাঙালি খাবারের অনেক পদই সময়সাপেক্ষ ও তাজা পরিবেশনের উপর নির্ভরশীল, যা বড় স্কেলে ডেলিভারিতে চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

তবে এই ছবিটা পুরোপুরি হতাশার নয়। সুইগির রিপোর্টে স্পষ্ট, গ্রাহকদের স্বাদ ধীরে ধীরে আরও বৈচিত্র্যের দিকে যাচ্ছে। দক্ষিণ ভারতের খাবার যেমন ডোসা ও ইডলি যেমন জায়গা করে নিয়েছে, তেমনই ভবিষ্যতে আঞ্চলিক রান্নার গুরুত্ব বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সঠিক ব্র্যান্ডিং, ক্লাউড কিচেন এবং আধুনিক প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে বাঙালি খাবারও জাতীয় স্তরে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে সুইগির ২০২৫ সালের রিপোর্ট শুধু খাবারের পরিসংখ্যান নয়, বরং ভারতের বদলে যাওয়া খাদ্যসংস্কৃতির আয়না। আর সেই আয়নায় আজও অনুপস্থিত বাঙালি খাবারের ছাপ যা নিয়ে প্রশ্ন, আলোচনা ও প্রত্যাশা সবই রয়ে গেল আগামী দিনের জন্য।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sandipa Sil

আইনের ছাত্রী। শিক্ষানবীশ আইনজীবী। সাংবাদিকের সঙ্গে সংসারের সূত্রে সংবাদে আগ্রহ। কলকাতা24x7-এর মাধ্যমে পথ চলার শুরু।

Follow on Google