গুয়াহাটি: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (NIT Silchar) শিলচর, একটি প্রিমিয়ার প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নাকি ক্রমশ ‘ইসলামিক প্রতিষ্ঠান’-এ পরিণত হচ্ছে? এই প্রশ্ন এখন অসমের বরাক উপত্যকায় তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোয় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) ও বজরং দলের পক্ষ থেকে এনআইটি শিলচর কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে।
সেখানে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে হোস্টেলগুলোকে নামাজের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, ইফতার পার্টিতে গরুর মাংস পরিবেশন করা হচ্ছে, সরস্বতী পূজার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, আর হালাল খাবারকে বাধ্যতামূলক করে হিন্দু ছাত্রদের খাদ্যাভ্যাসকে অসম্মান করা হচ্ছে।এই বিতর্কে একটি নাম বিশেষভাবে উঠে এসেছে প্রফেসর আব্দুল করিম বরভুইয়া। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং ট্রেনিং অ্যান্ড প্লেসমেন্ট সেলের প্রধান হিসেবে তিনি ইনস্টিটিউটের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন।
আরও দেখুনঃ ৪ মে-র পর ইনসাফ হবেই! মমতার ‘জঙ্গলরাজ’ খতমের হুঙ্কার মোদীর
অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর মতো কয়েকজন শিক্ষকের প্রভাবে ক্যাম্পাসে ধর্মীয় একপেশে নীতি চলছে। হোস্টেলে নামাজের জমায়েতে বাইরের লোকজন এবং শিক্ষকরাও যোগ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। একইসঙ্গে ইফতার ও ঈদের অনুষ্ঠানে গরুর মাংসের প্রচলন এবং মেসে হালাল খাবার বাধ্যতামূলক করার অভিযোগও উঠেছে, যা হিন্দু ছাত্রদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বজরং দলের স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে যে সরস্বতী পূজার অনুমতি চাইলে কর্তৃপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে, অথচ নামাজ ও ইফতারের জন্য কোনো বাধা নেই। এটাকে ‘সিস্টেম্যাটিক ইসলামাইজেশন’ বলে বর্ণনা করে সংগঠনগুলো এনআইএ-র তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজ করছে যা বিদেশি অর্থায়নে প্রভাব বিস্তার করছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশি ছাত্রদের জড়িত একটি মারামারির ঘটনায় পাঁচজনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, যা এই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।এনআইটি শিলচরের মত একটি জাতীয় স্তরের প্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগ ওঠা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেক অভিভাবক ও প্রাক্তন ছাত্ররা প্রশ্ন তুলছেন একটি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট কি ধর্মীয় কার্যকলাপের কেন্দ্র হয়ে উঠবে?
ছাত্রদের মধ্যে ধর্মীয় সহাবস্থান থাকা উচিত, কিন্তু কোনো একটি ধর্মকে প্রাধান্য দিয়ে অন্যদের অধিকার খর্ব করা হলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে হোস্টেলের মতো সাধারণ স্থানকে একপেশে ধর্মীয় ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দেওয়া এবং অন্য ধর্মের উৎসবের অনুমতি না দেওয়া এটা সেকুলারিজমের পরিপন্থী বলে মনে করছেন অনেকে।




















