কাঠমান্ডু: নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বাকস্বাধীনতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক উঠেছে। (Nepal journalist arrest)প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ ওরফে ‘বালেন’-এর সমালোচনা করে ইউটিউবে ভিডিও পোস্ট করার অভিযোগে একজন সাংবাদিক ও ইউটিউবারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জনতা ও তরুণ প্রজন্মের তীব্র প্রতিবাদের মুখে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এই ঘটনা নেপালে বাকস্বাধীনতা ও সামাজিক মাধ্যমের সীমানা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব নেপালের পাঁচথর জেলায়। রোশন পোখরেল নামের ওই ইউটিউবার তার ‘হেডিস’ (Hades) চ্যানেলে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করে ভিডিও আপলোড করেছিলেন বলে অভিযোগ। নেপাল পুলিশের সাইবার ব্যুরোর অভিযোগের ভিত্তিতে ৯ এপ্রিল (চৈত্র ২৬) তাকে গ্রেফতার করা হয়। পাঁচথর জেলা পুলিশের ডিএসপি অনিশ কর্ন জানান, সাইবার অপরাধের অভিযোগে তাকে আটক করা হয় এবং আদালত ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
আরও দেখুনঃ ভারতকে হুমকি দেওয়া জুলাই জঙ্গি সার্জিস বাবার চিকিৎসায় ভারতে ?
গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ওঠে। বিশেষ করে জেন-জি অ্যাক্টিভিস্টরা এটিকে বাকস্বাধীনতার সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন। তারা বলেন, সমালোচনা করার অধিকার সবার আছে। যদি ভাষা আপত্তিকর হয়, তাহলে আইনি পথে সতর্কতা বা জরিমানা হতে পারে, কিন্তু সরাসরি গ্রেফতার করে কণ্ঠরোধ করা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। ‘
প্রতিবাদকারীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরোনো পোস্ট শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহেরও আগের বিতর্কিত মন্তব্য তুলে ধরেন। ফলে ঘটনাটি দ্রুত জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়।চারদিন কাস্টডিতে থাকার পর ১২ এপ্রিল রোশন পোখরেলকে মুক্তি দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, তার স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় এবং জনতার চাপে তাকে ব্যক্তিগত জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত চলাকালীন যখন যখন প্রয়োজন হবে, তাকে হাজির হতে হবে। মুক্তির পর রোশন পোখরেলের সমর্থকরা এটিকে জনগণের বিজয় বলে উদযাপন করেন। অনেকে বলছেন, এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে যে নেপালের তরুণ সমাজ আর চুপ করে থাকবে না। তারা বাকস্বাধীনতা রক্ষায় সোচ্চার।




















