টার্গেট ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’? নদীয়ায় বাদ আড়াই লক্ষ মহিলার ভোট! ‘চক্রান্ত’ দেখছে তৃণমূল

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে নদীয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। জেলায় সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে ৪ লক্ষ ৬৩ হাজার ৯৫৬ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
Nadia Voter List Deletion

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে নদীয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। জেলায় সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে ৪ লক্ষ ৬৩ হাজার ৯৫৬ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যার মধ্যে অর্ধেকের বেশিই মহিলা। এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়াকে ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’ হিসেবে দেখছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

পরিসংখ্যানের আড়ালে চাঞ্চল্য

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯৭৭ জন মহিলা ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। অন্যদিকে, পুরুষ ভোটার বাদ পড়েছেন ২ লক্ষ ১৪ হাজার। এই গণ-বাতিলের ফলে নদীয়ার বর্তমান ভোটার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৯ লক্ষ ৫৪ হাজার ৮৮২-এ, যা কার্যত ২০১৬ সালের ভোটার সংখ্যার সমান। এক দশক পর ভোটার সংখ্যা এভাবে কমে যাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে বিষ্ময় তৈরি হয়েছে।

   

তৃণমূলের অভিযোগ ও ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ যোগ Nadia Voter List Deletion

তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সুবিধাভোগী মহিলাদের টার্গেট করা হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া মহিলারা মূলত তৃণমূলের সমর্থক, তাই তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে বিরোধীরা। রানাঘাট দক্ষিণ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম ও নাকাশিপাড়ার মতো এলাকায় হাজার হাজার মহিলার নাম উধাও হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।

কেন বাদ যাচ্ছে নাম?

জানা গিয়েছে, গত সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে শুরু হওয়া এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার পর থেকেই তালিকা ছোট হতে শুরু করে। তৃণমূলের অভিযোগ, ‘আনম্যাপড’ ও ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র মতো কারিগরি অজুহাতে শুনানি শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে বিবাহের পর পদবি পরিবর্তন বা বাপের বাড়ির নথির সঙ্গে বর্তমান তথ্যের অমিল থাকায় বৈধ ভোটার হওয়া সত্ত্বেও মহিলারা বিপাকে পড়ছেন।

ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর একাধিক সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে আরও নাম বাদ যাওয়ায় জেলাজুড়ে এখন উদ্বেগ চরমে। এই বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ পড়া ভোটের ফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google