‘ভুয়ো প্রেস কার্ড বানিয়ে তৃণমূলীদের সাংবাদিক বানাচ্ছে আইপ্যাক!’ বিস্ফোরক শুভেন্দু

Suvendu Adhikari New Sunrise Message Before BJP Government Oath Ceremony

কলকাতা: কয়লা দুর্নীতিতে মাথার উপর ঝুলছে খাঁড়া। গ্রেফতার আইপ্যাকের ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেল। (Fake Press ID)এই আবহেই ফের দুর্নীতিতে নাম জড়িয়ে বিতর্কে আইপ্যাক। এবারের অভিযোগ কাকের গায়ে ময়ূর পুচ্ছ লাগিয়ে ময়ূর বানানোর। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন আইপ্যাক ভুয়ো প্রেস আইডি কার্ড বানিয়ে তৃণমূলীদের নকল সাংবাদিক বানানোর কাজে লেগে পড়েছে।

শুভেন্দু অভিযোগ করেছেন আই-প্যাকের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ভুয়ো প্রেস আইডি কার্ড তৈরি করে তা তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। যাঁরা প্রকৃত সাংবাদিক নন, তাঁদের সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে তাঁরা ভোটগ্রহণ কেন্দ্র এবং প্রশাসনিক এলাকায় সহজে ঢুকে পড়তে পারেন, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করা হচ্ছে।

   

আরও দেখুনঃ কল্যাণী পুলিশের হাতে গ্রেফতার হরিণঘাটার হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা রাজীব দালাল

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে সাধারণ ভোটারদের উপর প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব। “প্রেস” পরিচয়ের আড়ালে থেকে ভোটারদের ভয় দেখানো, প্রভাবিত করা কিংবা ভোট প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, সাংবাদিকদের সাধারণত অনেক ক্ষেত্রেই বিশেষ প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়, যা এই ক্ষেত্রে অপব্যবহারের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

এছাড়াও শুভেন্দু অভিযোগ করেছেন এই তথাকথিত “ছদ্ম সাংবাদিকরা” নির্বাচনী এলাকায় এমনভাবে মোতায়েন করা হচ্ছে যাতে তারা নজরদারি এড়িয়ে স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করতে পারে। এতে শুধু নির্বাচনের স্বচ্ছতাই নয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপরও বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন গত কয়েক মাসে রাজ্য জুড়ে যেসব নতুন প্রেস আইডি কার্ড এবং অ্যাক্রেডিটেশন লেটার ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ যাচাই করা হোক। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন এবং পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হোক যাতে নতুন করে নিজেদের সাংবাদিক দাবি করা ব্যক্তিদের পরিচয় কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনকালীন সময়ে মিডিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধুমাত্র স্বীকৃত এবং প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদেরই ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া উচিত। সেই সঙ্গে তাদের পরিচয়পত্রের দ্বিতীয় পর্যায়ের যাচাইও জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।