ময়মনসিংহে সংখ্যালঘু ব্যক্তিকে পিটিয়ে-পুড়িয়ে খুন মৌলবাদীদের

বাংলাদেশের ভারতীয়দের উপর অত্যাচার চলছে বহুদিন ধরেই (Minority killing in Bangladesh)। গতকাল ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ময়মনসিংহে এক সংখ্যালঘু ব্যাক্তিকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
mymensingh-minority-killing-dipu-das-bangladesh-violence

বাংলাদেশের ভারতীয়দের উপর অত্যাচার চলছে বহুদিন ধরেই (Minority killing in Bangladesh)। গতকাল ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ময়মনসিংহে এক সংখ্যালঘু ব্যাক্তিকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম দিপু দাশ। বিজেপি নেতা তরুণ জ্যোতি তিওয়ারি তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বলেছেন, “ময়মনসিংহের তারাকান্দায় দিপু চন্দ্র দাশের নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুধু একটি খুনের ঘটনা নয়, এটি রাষ্ট্র, প্রশাসন ও সমাজের সম্মিলিত ব্যর্থতার এক ভয়াবহ দলিল।”

অভিযোগ উঠেছে, কোনো বিচার ছাড়াই, কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই এক সংখ্যালঘু হিন্দু যুবককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। কিন্তু বর্বরতা সেখানেই থামেনি। মৃতদেহ গাছে বেঁধে স্লোগান দিতে দিতে আগুনে পোড়ানো হয়, পরে মহাসড়কে টেনে নিয়ে গিয়ে আবার আগুন ধরানো হয়। এই পুরো ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার হয় যা প্রমাণ করে, হত্যাকারীরা লুকোয়নি, বরং নিশ্চিত ছিল যে কেউ তাদের থামাবে না।

   

এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বাংলাদেশে সম্প্রতি কয়েক বছরে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের এক দীর্ঘ ও ভয়ংকর ধারাবাহিকতার অংশ এটি। যেখানে “অভিযোগ” মানেই কার্যত মৃত্যুদণ্ড, আর ধর্মীয় পরিচয়ই কাউকে অপরাধী বানানোর জন্য যথেষ্ট। দিপু দাশের মৃত্যু সেই বাস্তবতার আরেকটি রক্তাক্ত প্রমাণ।

সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয়, এই নৃশংসতা প্রশাসনের চোখের সামনেই ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বহু মানুষ উপস্থিত ছিল, অনেকে ফেসবুকে লাইভ করছিল, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সময়মতো হস্তক্ষেপ করেনি। পুলিশ ও প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তা নতুন নয়। এ দৃশ্য অনেকের মনে করিয়ে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের চন্দন দাস হত্যাকাণ্ডের কথা, যেখানে তাঁর স্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন—স্বামী জীবিত থাকলেও পুলিশকে বারবার ফোন করা সত্ত্বেও কেউ আসেনি, কোনো অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

এপার বাংলা ও ওপার বাংলার চিত্র যেন ক্রমেই একে অপরের প্রতিবিম্ব হয়ে উঠছে। বাংলাদেশে প্রকাশ্য মৌলবাদী উন্মত্ততা, আর পশ্চিমবঙ্গে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা ধর্মীয় হিংসা—পদ্ধতি আলাদা হলেও মূল সমস্যাটা এক। মুর্শিদাবাদ, মালদা, নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলিতে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ নতুন কিছু নয়। কিন্তু প্রতিবারই সেগুলোকে “বিচ্ছিন্ন ঘটনা” বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যেখানে অভিযুক্ত নয় অভিযোগই শাস্তির ভিত্তি হয়, সেখানে রাষ্ট্র কার্যত ভেঙে পড়ে। সে রাষ্ট্র ইসলামিক শাসনের নামে হোক বা ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশে সংখ্যালঘুর জন্য ফলাফল একই থাকে: ভয়, অনিশ্চয়তা ও মৃত্যু।

দিপু দাশের হত্যাকাণ্ড আমাদের শুধু শোকাহত করার জন্য নয়, সতর্ক করার জন্য। বাংলাদেশকে দূরের কোনো সমস্যা ভেবে চোখ ফেরানোর সুযোগ আর নেই। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরবতা থাকে, সেখানে অন্যায় আরও শক্তিশালী হয়। অধিকার ভিক্ষা করে পাওয়া যায় না, অধিকার দাবি করতে হয়। প্রশ্ন একটাই এই রক্তাক্ত সতর্কবার্তার পরও কি আমরা নীরব থাকব?

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google