পঞ্জাব: পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের কাসুর জেলার পাটোকি এলাকায় লস্কর-ই-তৈয়বা (Mohammad Arif) র একজন প্রথম সারির প্রশিক্ষক ও উস্তাদ মহম্মদ আরিফের রহস্যজনক মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। তিনি লস্কর-ই-তৈয়বার হয়ে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদী প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। সূত্রের খবর অনুসারে, তিনি এক হাজারেরও বেশি জঙ্গি ও মাদ্রাসা ছাত্রকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন এবং পাটোকিতে লস্কর-ই-তৈয়বার একটি গুরুত্বপূর্ণ মারকাজ (কেন্দ্র) গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।
মুহাম্মদ আরিফকে লস্কর-ই-তৈয়বার মধ্যে ‘উস্তাদ’ নামে সম্বোধন করা হত। পাটোকির স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সংগঠনের প্রশিক্ষণ শাখায় কাজ করেছেন। খবরে বলা হয়েছে, তাঁর প্রশিক্ষণে যারা গিয়েছে, তারা শুধু অস্ত্র চালনা নয়, আদর্শিক প্রশিক্ষণও পেয়েছে। পাটোকিতে লস্কর-ই-তৈয়বার মারকাজ স্থাপনের পেছনে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। এই কেন্দ্রটি সংগঠনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হত।
আরও দেখুনঃ এবার মমতার প্রস্তাবকের বাড়িতে আয়কর হানা! ফুঁসছে তৃণমূল
মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। কিছু সূত্রে বলা হচ্ছে, প্রাকৃতিক কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, আবার কেউ কেউ রহস্যজনক মৃত্যুর সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। লস্কর-ই-তৈয়বার মতো সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি সাধারণত গোপন রাখা হয়, তাই বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে তাঁর মৃত্যু সংগঠনের প্রশিক্ষণ শাখায় একটি বড় শূন্যতা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।লস্কর-ই-তৈয়বা দীর্ঘদিন ধরে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযুক্ত।
২০০৮ সালের মুম্বই হামলাসহ একাধিক বড় ঘটনার পেছনে এই সংগঠনের হাত থাকার অভিযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। মহম্মদ আরিফের মত প্রশিক্ষকরা সংগঠনের জন্য নতুন প্রজন্ম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তাঁর মাধ্যমে হাজারেরও বেশি যুবক প্রশিক্ষিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে এ ধরনের জঙ্গি ঘাঁটি গড়ে ওঠার খবর দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত।
পাটোকি এলাকাটি কাসুর জেলায় অবস্থিত এবং সেখানে মাদ্রাসা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে যুবকদের আকৃষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। মহম্মদ আরিফের মৃত্যুর পর এই অঞ্চলে লস্কর-ই-তৈয়বার কার্যক্রম কীভাবে প্রভাবিত হয়, সেটা দেখার বিষয়। পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই খবর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
লস্কর-ই-তৈয়বার প্রশিক্ষকদের মৃত্যু সংগঠনের কাঠামোয় কোনো প্রভাব ফেলে কি না, সেটা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন প্রশিক্ষকের মৃত্যু হয়তো সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু সংগঠনের গভীর শিকড়ের কারণে কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।




















