পঞ্চায়েত নির্বাচনে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ আগে থেকেই কার্যকর রয়েছে এবং সেই সিদ্ধান্তকে কখনও কোনও রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেনি। এই প্রসঙ্গ টেনে সংসদে নতুন করে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিতর্কের মাঝেই কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন গ্রামীণ স্তরের পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ কার্যকর করা হয়েছে, তখন তা নিয়ে কোনও বড় রাজনৈতিক বিরোধিতা দেখা যায়নি। কিন্তু একই ধরনের সংরক্ষণ যখন সংসদে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তখন কিছু রাজনৈতিক দল এর বিরোধিতা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই দ্বিচারিতা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি নারী ক্ষমতায়নের পথে বাধা সৃষ্টি করছেদ
মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, নারী শক্তিকে উপেক্ষা করে কোনও উন্নত গণতন্ত্র এগোতে পারে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পঞ্চায়েত স্তর থেকে শুরু করে জাতীয় স্তর পর্যন্ত নারীদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, “পঞ্চায়েতে যখন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ আনা হয়েছিল, তখন কেউ বিরোধিতা করেনি। অথচ আজ সংসদে একই নীতি আনার সময় প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।” এই প্রেক্ষাপটে তিনি বিরোধীদের উদ্দেশে কঠোর মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এর বিরোধিতা করলে মাশুল দিতে হবে।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিরোধী শিবিরের মতে, এটি গণতান্ত্রিক আলোচনার পরিসরকে সংকুচিত করার চেষ্টা। অন্যদিকে শাসক শিবিরের দাবি, এটি নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক সতর্কবার্তা।
মহিলা সংরক্ষণ বিলটি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিল কার্যকর হলে সংসদ ও বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটি নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাঁদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করবে।




















