নয়াদিল্লি: ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকায় চীনা সেনার সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী যখন দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিল, (MM Naravane)তখন চিনারা তাদের তাঁবু খুলে সরে গিয়েছিল। এক ইঞ্চি জমিও হারায়নি ভারত। এই বড়সড় বক্তব্য দিয়ে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানে বিরোধীদের দীর্ঘদিনের প্রচারণাকে একেবারে ধুলিসাৎ করে দিয়েছেন।
গালওয়ান উপত্যকা ও প্যাট্রোলিং পয়েন্ট-১৪ (পিপি-১৪)-এর সেই উত্তেজনাপূর্ণ সময়ের কথা এখনও অনেকের মনে তাজা। ২০২০ সালের জুন মাসে ১৫ তারিখের রাতে সেখানে ভয়াবহ সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন। চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) সেখানে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। বিরোধী দলগুলো, বিশেষ করে কংগ্রেসসহ কয়েকটি বিরোধী শিবির, সেই ঘটনাকে হাতিয়ার করে দাবি করেছিল যে ভারত অনেক জমি হারিয়েছে, চিন ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে এবং সরকার নাকি চুপ করে বসে আছে।
“ভারত কেন চিনের সামনে মাথা নত করল?”এমন প্রশ্ন তুলে তারা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ চালিয়েছিল।কিন্তু সেই প্রচারণার মুখে এখন জেনারেল নারাভানের স্পষ্ট বক্তব্য এসে পড়েছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “চিনারা তাদের তাঁবু খুলে ফেলে পিছু হটে গিয়েছিল। ভারতীয় সেনা দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায় তারা আর টিকতে পারেনি। এক ইঞ্চি জমিও হারায়নি আমরা। আমরা যেখানে ছিলাম, সেখানেই আছি।” তিনি আরও জানিয়েছেন যে, ভারতীয় সেনারা যখন শক্ত অবস্থান নিয়েছিল, তখন চিনারা দ্রুত তাদের অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছিল।
এটা ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর দৃঢ়তা ও কৌশলের ফল।জেনারেল নারাভানে সেই সময় সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর এই বক্তব্যকে অনেকে ‘ঐতিহাসিক সত্য প্রকাশ’ বলে অভিহিত করছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বিরোধীদের দাবি অনুযায়ী কোনো জমি হারানোর প্রশ্নই ওঠে না। বরং ভারতীয় সেনা চীনাদের অগ্রগতি আটকে দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে ডিসএনগেজমেন্ট প্রক্রিয়ায়ও ভারত তার অবস্থান ধরে রেখেছিল।
গালওয়ানে চিনারা যে তাঁবু খাটিয়েছিল, সেগুলো ভারতীয় সেনার দৃঢ়তার কারণে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল।এই বক্তব্যের পর বিরোধী শিবিরে চাপা অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। যারা বছরের পর বছর “ভারত জমি হারিয়েছে”, “মোদী সরকার চিনের কাছে নতজানু” বলে প্রচার চালিয়ে এসেছে, তাদের সেই আখ্যান এখন ধাক্কা খেয়েছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, জেনারেল নারাভানের মতো একজন দায়িত্বশীল সেনা অফিসারের মুখ থেকে এই স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, বিরোধীরা রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুকে ভুলভাবে ব্যবহার করেছে।
তবে গালওয়ানের সেই ঘটনা শুধু জমির প্রশ্ন নয়। ২০ জন শহিদ জওয়ানের আত্মত্যাগের কথা দেশ কখনও ভুলবে না। সেই রাতের অন্ধকারে হাতাহাতি লড়াইয়ে চিনারা লোহার রড, পাথর ও অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করেছিল বলে জানা গেছে। ভারতীয় সেনা সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছিল। জেনারেল নারাভানে সেই সময়ের সিদ্ধান্তগুলোর কথা উল্লেখ করে বলেছেন, সরকারের পূর্ণ সমর্থন ছিল এবং প্রয়োজনে গুলি চালানোর অনুমতিও ছিল।




















